জনস্রোতের সামনে কোন ষড়যন্ত্রই টিকতে পারবে না: নিক্সন চৌধুরী

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৫

ফরিদপুর-৪ আসনের সাংসদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেছেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন তারা মনে রাখবেন, জনস্রোতের সামনে কোন ষড়যন্ত্রই টিকে থাকতে পারবে না। বিগত ৫ বছর জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্ব করে ফরিদপুর-৪ আসনের জনগণের মূল্যায়ন ফিরিয়ে দিয়েছি। একই সাথে সমতার ভিত্তিতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জনগণের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ।’ 

বুধবার বিকালে উপজেলার ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভা তিনি এসব কথা বলেন।

জনসভা উপলক্ষে দুপুর হতেই হাজার হাজার জনগণ ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে সিংহ মার্কার শ্লোগান দিয়ে জড়ো হতে থাকে। জনগণের স্রোতে মাঠ ভরে তা বিশ্বরোড ও মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাষণের শুরুতেই নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র হিসাবে ফরিদপুর-৪ আসনকে সত্যিকার উন্নয়ন দিয়ে জনগণ তথা ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছি। তার প্রমাণ আজ আমি পেয়েছি। কারণ, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজারেরও বেশী নারী পুরুষ আজ জনসভায় আমাকে ভালবেসে যোগ দিয়েছে। আপনারা তিন থানার লাখো জনতা যখন আমার সাথে আছেন ইনশাল্লাহ আগামীতে বিজয়ের মালা পড়ে আমি আপনাদের সেবা করবো।’

বর্তমান সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। জনগণ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নিবিগ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কাজী জাফরউল্লাহ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। জন বিচ্ছিন্ন কাজী জাফরউল্লাহ আমার জনপ্রিয়তা ও তার ভোটের মাঠে জনশুন্যতা দেখে তিনি এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। জনগণকে বলবো, আপনারা সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে আপনাদের পবিত্র আমানত ভোট দিয়ে ভোট কেন্দ্র পাহাড়া দিবেন। আমি যদি গত ৫ বছর আপনাদের উন্নয়ন ও মূল্যায়ন করে থাকি তবে আমাকে আমার সিংহ প্রতিকে ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখুন।’

আরো পড়ুন: যে কারণে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে গোলাম মাওলা রনি

আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থী কাজী জাফরউল্লাহকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘ তিনি জনবিছিন্ন একজন নেতা, তার মিটিং মিছিলে  জনতা কোন সারা দেয় না। তিনি বুঝতে পেরেছেন তার পরাজয় নিশ্চিত। তাই তিনি এখন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। আমি প্রশাসনকে বলবো, আপনারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুন এতেই জনতার বিজয় হবে। কোন ভাবেই জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। কোন ধরনের ভোট চুরি করা নায়। তাই নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন বাকি মাঠের পরিবেশ সুন্দর আছে জনগণকে তাদের ভোট দিতে সার্বিক সহায়তা করুন।’

ভাঙ্গা বার কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহুরুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় উপস্থিত ছিলেন- ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন, ভাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সম্পাদক আবু জাফর মুন্সি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আমিনুল ইসলাম, আজিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোতালেপ মাতুব্বর, হামেরদী ইউপি চেয়ারম্যান শামচুল আলম রাসেল, আলগী ইউপি চেয়ারম্যান কাওছার ভূঁইয়া, তুজারপুর ইউপি চেয়ারম্যান পরিমল মণ্ডল, মানিকদাহ ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, নরুল্লাগঞ্জ ইউপ চেয়ারম্যান তারেক মাসুদ, কালামৃধা ইউপি চেয়ারম্যান লিঠু মাতুব্বর, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বিশ্বাস, ১০৫৫ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভাঙ্গা অঞ্চলের সভাপতি আবুল কালাম মাতুব্বর, পৌর কাউন্সিলর ওমর আলী, পৌর কাউন্সিলর ওমর ফারুক হবি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাক ফকির উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মুন্সি, শরীফাবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি মতিয়ার রহামান, সাবেক কেএম কলেজের জিএস লাবলু মুন্সি, আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাপোলো নওরোজ, মামুন খন্দকার, হেমায়েত হোসেন, হায়াত মোল্লা, বারেক শেখ প্রমুখ।

ইত্তেফাক/বিএএফ