ভালো রম্য লেখক হতে হলে এ রাস্তাটা হেঁটেই আসতে হবে —আহসান হাবীব

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২০, ১৮:৩৮

 

ঠাট্টাত্কার

 

আহসান হাবীব উন্মাদ সম্পাদক, কার্টুনিস্ট ও বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় রম্য সাহিত্যিক। ঠাট্টার ১২ বছরের পথচলায় এতকাল তিনিও আমাদের সাথে ছিলেন। বারো বছর পূর্তি উপলক্ষে ঠাট্টার প্রতিবেদক সত্যজিত্ বিশ্বাস হাজির হয়েছিলেন উন্মাদ কার্যালয়ে। নিয়ে এলেন রম্য সাহিত্য নিয়ে একটি সিরিয়াসধর্মী সাক্ষাত্কার

রম্য সাহিত্যের বর্তমান অবস্থা কেমন?

ভালোই তো চলছে। আগে তো তেমন বই বের হতো না। এখন তো দেখি বইমেলা আসলে প্রচুর রম্য বই বের হয়। ভালো হচ্ছে কি খারাপ হচ্ছে সেটা সময় বলবে। যেটা ভালো, সেটা ঠিকই টিকে যাবে। বাকিগুলো ঝরে যাবে।

কিছুদিন আগেও প্রথম সারির অনেক পত্রিকাই রম্য সাপ্লিমেন্ট বের করত, এখন কমছে...

এটা খেয়াল করেছি। কিন্তু কেন হচ্ছে, আমি ঠিক জানি না। অনেক কারণেই হতে পারে। এটা হতে পারে ওই পত্রিকার সাপ্লিমেন্ট পাতার সম্পাদকের ব্যর্থতা। যদি পাতার মান ভালো হতো, তাহলে নিশ্চয়ই টিকে থাকত।  

রম্য সাহিত্য আগে বেশি ভালো হতো নাকি বর্তমানে?

যে কোনো ক্ষেত্রেই আমরা একটা কথা খুব বলি, আগে ভালো ছিল। আগে ভালো হতো। মাসুদ রানা আগে ভালো হতো, বিটিভির নাটক আগে ভালো হতো, উন্মাদ আগে ভালো হতো। আমি মাঝেমাঝেই আগের ‘উন্মাদ’ পত্রিকা ঘেঁটে দেখি, কই এখন উন্মাদ তো খারাপ হচ্ছে না। এটা আসলে মানুষের একটা স্বভাবগত ব্যাপার বলা যেতে পারে। যত দিন যাচ্ছে, আমরা আপডেটেট হচ্ছি। কাজেই বর্তমানটাই বেশি ভালো, বেশি আধুনিক। তবে এটাও বলব, এখন যারা  রম্য সাহিত্য নিয়ে কাজ করছেন, তারা বিখ্যাত লেখকদের লেখা পড়েন না। তাদের লেখায় পরোক্ষ হিউমার, প্রচ্ছন্ন হিউমার এগুলো নিয়ে খুব একটা পড়াশুনা আছে বলে মনে হয় না। তাদের চেষ্টা থাকে প্রতি লাইনে লাইনে হাসাতে।     

 

এ সময়ের ফান সাপ্লিমেন্টগুলো কতটা হাসি ফোটাতে পারছে?

আমার তো মনে হয় পারছে। পারছে বলেই এখনো টিকে আছে। তবে এটা ধরে রাখতে হবে। নতুন অনেকেই লিখছে। যত বেশি কন্টেন্ট থাকবে, তত বেশি সমৃদ্ধ হবে পাতা। সেজন্য সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে বেশি বেশি কাজ করতে হবে।    

আমাদের রম্য সাহিত্যের ভবিষ্যত্...

আমরা জাতি হিসেবে খুব রসিক। আমাদের পূর্বাসুরী যারা রম্য লিখতেন— শিবরাম চক্রবর্তী, ত্রৈলোক্যনাথ, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, সৈয়দ মুজতবা আলী সবাই ছিলেন নামকরা রম্য সাহিত্যিক। তাদের উত্তরসূরী হিসেবে আমাদের তো ভালো লেখারই কথা। আমাদের জিনে তো এটা আছেই। সেদিক থেকে চিন্তা করলে বাংলাদেশের রম্য সাহিত্যের ভবিষ্যত্ তো ভালো হবারই কথা। 

 

রম্যে কার্টুনের প্রভাব কেমন?

কার্টুন হলো সর্বজনীন ভাষা। এর নিজেরই একটা ভাষা আছে। শুধু রম্য পাতায় বলে নয়, যে কোনো জায়গাতেই কার্টুনটাই সবার আগে চোখে পড়ে।

‘উন্মাদ’ মানুষের মুখে কতটা হাসি ফোটাতে পেরেছে?

গত কয়েক বছর ধরে বইমেলায় একটা নতুন কথা শুনি, যা আমার কাছে খুবই   ইন্টারেস্টিং লাগছে। বেশিরভাগ লোক এসে আমাকে বলছে, আমি উন্মাদ পড়ে বড় হয়েছি। আমাদের শৈশব, কৈশোর আনন্দময় করে দেবার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। তার মানে কি এই না—আমরা অনেকের শৈশব, কৈশোরকে আনন্দময় করতে পেরেছি। গত চল্লিশ বছর ধরে কিন্তু আমরা টিকে আছি। সেই অর্থেও আমরা তো সফল। হা হা হা...।

রম্য লেখকদের জন্য কিছু বলবেন? 

পড়তে হবে, পড়ার কোনো বিকল্প নেই। ব্যারন মুন সাওজেন, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়, ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়, শিবরাম চক্রবর্তী, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, সৈয়দ মুজতবা আলীর বই পড়তে হবে। বলছি, এসব বই পড়তেই হবে।

একশ জন মানুষের ভেতরে দশ জন মানুষ গান গাইতে পারে, পাঁচজন মানুষ ছবি আঁকতে পারে, আর একজন মানুষ হিউমার করতে পারে। ভালো একজন রম্য লেখক হতে হলে এ রাস্তাটা হেঁটেই আসতে হবে।

ঠাট্টার এক যুগ পূর্তিতে ঠাট্টার পাঠকদের উদ্দেশে যদি কিছু বলতেন।

ঠাট্টার পাঠকদের অভিনন্দন। তারা পড়ছে বলেই ঠাট্টা দুর্দমনীয় গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ঠাট্টার উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ কামনা করছি। ঠাট্টার সঙ্গে জড়িত সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন।