কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিলালপুর গ্রামের আলম সরকারের (৪৭) লাশ দাফনের তিন মাস ১৪ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য আদালতের নির্দেশে এ লাশ উত্তোলন করা হলো। আলম সরকার দিলালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মেহবুবের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হয়। সদর উপজেলার দিলালপুর কুমিল্লা পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) এ সময় উপস্থিত ছিল।
মামলার অভিযোগকারী ও মৃত আলমের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৪ বছর প্রবাস জীবনের সকল উপার্জন তার বড় ভাই আব্দুল বাতেনের ব্যাংক একাউন্টে পাঠায় আলম। বিদেশ থেকে ফেরৎ এসে সেই টাকার হিসেব চাইলে দুই ভাইয়ের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। পরে পৈতৃক জমি ভাগ বাটোয়ারা নিয়েও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মৃত আলম স্ত্রী ও চার কন্যা সন্তান নিয়ে আলাদা বসবাস করছিলেন। জীবিকার তাগিদে স্থানীয় বাজারে একটি চায়ের দোকান দেন। গত ৩০ জুলাই সোমবার সকালে তার স্ত্রী সালমা আক্তার দোকানে গিয়ে স্বামীর মৃতদেহ দেখতে পান। তার পাশে ছেড়া বালিশ ছিল। শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এসব দেখে সালমা মনে করেন, তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার পর সালমা আক্তার ভাসুর আবদুল বাতেন ও তার দুই ছেলে হাসান এবং মামুনের নামে কুমিল্লা আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। স্ত্রী তার স্বামীর মৃতদেহ উত্তোলনপূর্বক ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লার ৮নং আমলী আদালতে আবেদন করেন। আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইফরানুর রহমান চৌধুরী লাশ উত্তোলন পূর্বক ময়না তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন এবং রহস্য উদঘাটনের জন্য কুমিল্লা পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে দায়িত্ব দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশের উপ-সহকারী বেলাল আাহমেদ বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করেছি। রির্পোটের আলোকেই আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করবো।
ইত্তেফাক/নূহু
