ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। ৪৭ বছর আগে এই মাসে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। আর এর ১৮ বছর আগে একই মাসে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র ইত্তেফাকের জন্ম হয়। ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকের পথচলা শুরু করে গত সোমবার পত্রিকাটি ৬৬ বছরে পা রেখেছে। আর এই দিনটিকে সামনে রেখেই গত ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন ‘সাংবাদিকতার উত্কর্ষে’ শীর্ষক কর্মশালা।
এই কর্মশালাটি যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইউল্যাব ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে শিক্ষার্থীদের সাথে সাংবাদিকতার ইতিহাস জানার প্রয়োজনীয়তাসহ ভবিষ্যত্ সাংবাদিকতার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট জগতের উল্লেখ্যযোগ্য ব্যক্তিত্বরা। দেশের স্বাধিকার আন্দোলনে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে দৈনিক ইত্তেফাক। আদর্শে অবিচল থেকে সততার সাথে নির্ভীক সাংবাদিকতা করে গেছেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। আর দেশে সাংবাদিকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করাও তারই অবদান। এই ইতিহাস সাংবাদিকতার পাঠ্যক্রমে সেভাবে উঠে আসেনি, ফলে তা নতুনদের কাছে পৌঁছে দিতেই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
গত ১৯ ডিসেম্বর বুধবার পড়ন্ত বিকেল রাজধানীর বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আনাগোনা শুরু হয় সাংবাদিকতা পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের। ভবনের দোতলায় উঠেই দেখা গেল ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার একটি প্রতিকৃতি রাখা হয়েছে। প্রতিকৃতির গায়ে লেখা ‘একজন কলম যোদ্ধার গল্প শুনি’। প্রতিকৃতিটিই যেন অনুষ্ঠানে আগতদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছিল। অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ে এলেন ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। তারপর একে একে অতিথিরা এলেন। এ সময় মঞ্চের পাশে বড়পর্দায় চলছিল ইত্তেফাকের পথচলার ভিডিওচিত্র। বিকেল ৫টায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। শুরুতেই বড়পর্দায় দেখানো হয় চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালাগুলোর চুম্বক অংশ নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্র। তারপরই স্বাগত বক্তব্যে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘আগামী প্রজন্মের প্রতি ইত্তেফাকের দায়িত্ববোধ থেকেই এই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই কর্মশালা আয়োজনে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে এই আয়োজন করার জন্য আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। কর্মশালাগুলোতে সাংবাদিকতার নানাদিক নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে আলোচনা হয়েছে। সাংবাদিক হিসেবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এ কথাগুলো শিক্ষার্থীদের কাজে লাগবে বলে আশা করি। তরুণরা বরাবরই জানতে চায়, নতুন কিছু শিখতে চায়। সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের জানার এই আগ্রহ মেটাতে অবশ্যই কাজ করবে ইত্তেফাক।’ দর্শকসারিতে এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক আন্দালিব রাশদী, ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্সের কার্যনির্বাহী পরিচালক মুহিবুল আহসান শাওন, ইউল্যাবের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম ডিপার্টমেন্টের হেড জ্যুড উইলিয়াম হেনিলো, ইত্তেফাকের সহকারী সম্পাদক মিনার মনসুর প্রমুখ। এছাড়াও কর্মশালাটির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন ইস্পাহানির জেনারেল ম্যানেজার ওমর হান্নান, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাইফুল ইসলাম, ওরেঞ্জির সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ডিরেক্টর খায়রুল আনাম, বিকাশের হেড অব কর্পোরেট শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম ও গ্রিন ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মাহমুদুল মুদাসসির।
সম্পাদকের বক্তব্যের পর মঞ্চে ডাকা হয় আয়োজনের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত কিছু বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। চার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া প্রতিবেদনগুলো থেকে বাছাই করা চারটি প্রতিবেদনের জন্য সেরা চার শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট তুলে দেন কর্মশালার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। বিজয়ীরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী জাহানূর ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুব আলম, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজা খাতুন স্বপ্না ও ইউল্যাবের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী দোলনচাঁপা দত্ত।
এছাড়াও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। এরপর চার বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন ব্যবস্থাপনায় থাকা সেচ্ছাসেবকদের শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী পরিচালক মুহিবুল আহসান শাওন ও সহকারী সম্পাদক মিনার মনসুর। সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে বিকাশের হেড অব কর্পোরেট শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে ইত্তেফাক পড়ি। শিক্ষার্থীদের দেশের সাংবাদিকতা ইতিহাস জানাতে ও সাংবাদিকতা পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা দিতে ইত্তেফাক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।’ পুরস্কার প্রদানের পালা শেষে ১০ মিনিটের বিরতি। সবাই মিলনায়তন ছেড়ে বাইরে ইত্তেফাকের স্টলের সামনে হাজির। সেখানে পরিবেশন করা হয় বাহারি শীতের পিঠা, পিঠার প্লেট হাতে শীতের সন্ধ্যাটিকে মুহূর্তেই ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি করে। তারপরই শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। শুরুতে আবৃত্তি করেন ইউল্যাবের শিক্ষার্থী দোলনচাঁপা দত্ত। গান পরিবেশন করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের শিক্ষার্থী সাচি ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ্র সরকার ও চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী দেবিকা পোদ্দার। তাদের সঙ্গে ছিলেন মিঙ মঙ মার্মা। শেষে দলবল নিয়ে মঞ্চে আসেন ইত্তেফাক কর্মী অতনু তিয়াস।
সবশেষে অতিথিদের সঙ্গে ফটোসেশন ও আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে পর্দা নামে সাংবাদিকতার উত্কর্ষে কর্মশালা ২০১৮-এর। কর্মশালা আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল সামিট গ্রুপ, অ্যাকশন এইড, গ্রিন ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ই-সিকিউরিটিজ লিমিটেড, বিকাশ, ইস্পাহানি ও ওরেঞ্জি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
গত ১ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘সাংবাদিকতার উত্কর্ষে’ শীর্ষক কর্মশালা। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় নিবন্ধিত শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ও অধ্যাপক হায়াত্ মামুদ, সাংবাদিক ও গবেষক আফসান চৌধুরী, জিটিভির এডিটর-ইন-চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ও ইউল্যাবের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. সুমন রহমান। কর্মশালায় সাংবাদিকতার ইতিহাস জানার গুরুত্ব, স্বাধিকার আন্দোলনে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ও ইত্তেফাকের ভূমিকা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন সহস্রাব্দে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারণা ও কৌশলগত যে পরিবর্তন ঘটেছে সেখানে সাংবাদিকতার অ্যাথিক্স নিয়ে কথা বলেন বক্তারা। স্বাগত বক্তব্যে ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিক হতে গেলে যেকোনো বিষয়কে পর্যবেক্ষন ও বিশ্লেষণের দক্ষতা থাকতে হয়। এ দক্ষতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সাংবাদিকতার ইতিহাস জানতে হবে। জানতে হবে দেশ-বিভাগের আগে ও পরে এ দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি কেমন ছিল। এসব বিষয়ে পড়াশোনা ও পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে বর্তমানে দেশ কোন পথে এগুচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এসব ইতিহাস জানানোর জন্য শিক্ষকদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।’ এছাড়াও তিনি সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব ও পরবর্তী রাজনীতিতে ইত্তেফাক ও তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন। বক্তব্যের ফাঁকে তরুণদের পড়ে শোনান মানিক মিয়ার বিশ্লেষণধর্মী জনপ্রিয় কিছু কলাম।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
‘১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের পর প্রতিটি মিডিয়াই নিজেদের স্ব স্ব মতাদর্শ লালন করতো। মুসলিম বাঙালিদের মতাদর্শ লালন করার মতো কোনো পত্রিকা স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় ছিল না। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় বাঙালি মতাদর্শ প্রচার করার মতোও পত্রিকা তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে ছিল না। সেসময় এই মতাদর্শ প্রচারের জন্য একটি পত্রিকার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। সেই লক্ষ্যেই ১৯৫৩ সালে পথচলা শুরু হয় দৈনিক ইত্তেফাকের।’— গত ৩ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে ‘সাংবাদিকতা উত্কর্ষে’ শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘সাংবাদিকতা একটি প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ পেশা। যেখানে অনেক বাঁধা অতিক্রম করে টিকে থাকতে হয়। বাংলাদেশে বেশিরভাগ সাংবাদিক হত্যারই বিচার হয়নি। তারপরও সাংবাদিকরা তাদের কাজ ঝুঁকি নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ওপর দিনদিন নতুন নতুন আইন পাশ হচ্ছে। যার মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাদের স্বাধীন সাংবাদিকতা করতে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন।’
আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক আন্দালিব রাশদী, পারভীন সুলতানা ঝুমা প্রমুখ।
কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অতিথিদের কাছে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
ইউল্যাব
গত ৫ ডিসেম্বর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব) মিলনায়তনে ‘সাংবাদিকতার উত্কর্ষে’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় দেশের সাংবাদিকতায় মানিক মিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘মানিক মিয়া শক্তিশালী সাংবাদিক ছিলেন। তিনি পাকিস্তান আমলে যেসব কলাম লিখেছেন তাতে তাকে সাহসী সাংবাদিক বলতেই হবে। সাংবাদিকতার ইতিহাস জানতে হলে নতুন প্রজন্মকে এসব জানতে হবে।’ ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক এইচ এম জহিরুল হক বলেন, ‘উন্নয়নশীল বিশ্বে পত্রিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ষাট ও সত্তরের দশকে ইত্তেফাক পাকিস্তান সরকার বিরোধী আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রেখেছে।’ সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও গবেষক আফসান চৌধুরী বলেন, ‘মূলধারার পত্রিকাগুলোকে টিকে থাকার জন্য এখন সামাজিক গণমাধ্যমের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।’ সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, ‘এ দেশের সাংবাদিকতার ইতিহাস থেকে ইত্তেফাক ও মানিক মিয়ার নাম বাদ দেওয়া যাবে না।’ তিনি আগামীর সাংবাদিকতাকে মুক্তভাবে এগিয়ে নিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি জানান। ইত্তেফাকের অনলাইন সম্পাদক তারিন হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতার সময়কালে বঙ্গবন্ধু, মানিক মিয়া এবং দৈনিক ইত্তেফাক হাতে হাত রেখে চলেছে।’ কর্মশালায় অতিথিরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন ইউল্যাবের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের প্রধান জ্যুড উইলিয়াম হেনিলো।
স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি
গত ১১ ডিসেম্বর স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ধানমন্ডি ক্যাম্পাসে ‘সাংবাদিকতার উত্কর্ষে’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ইত্তেফাকের সম্পাদকীয় বিভাগের ইনচার্জ সহকারী সম্পাদক মিনার মনসুরের সঞ্চালনায় কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক আন্দালিব রাশদী, দৈনিক কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য ও এমিরিটাস অধ্যাপক ড. এম ফিরোজ আহমেদ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী আব্দুল মান্নান। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাস জানার গুরুত্ব, স্বাধিকার আন্দোলনে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ও ইত্তেফাকের ভূমিকা, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে সাংবাদিকতার প্রচলিত ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন আসছে তাতে সাংবাদিকতার নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। একইসাথে তারা বলেন, ইত্তেফাক ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এক ও অভিন্ন। আন্দালিব রাশদী বলেন, ‘৬৬ বছর ধরে একটি পত্রিকা টিকে থাকা সহজ বিষয় নয়। ইত্তেফাক এখনো জনপ্রিয়তার সঙ্গে টিকে আছে। পত্রিকাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভূমিকা রেখেছে। ইত্তেফাকের ইতিহাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।’ এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকরা নানা বিশেষণে ভূষিত করেন প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু অন্য দেশে সাংবাদিকরা মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার সম্বোধনেই প্রশ্ন করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তোষামদের অভ্যেস দূর করতে হবে।’ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন শতাধিক শিক্ষার্থী। মূল আলোচনার পর অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। অতিথিদের শিক্ষার্থীদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
