মহামারিতে অর্থনীতির ক্ষতি কাটাতে উদ্যোগী বড়ো দেশগুলো

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২০, ২২:২৯

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় এর অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটাতে ত্বরিত পদক্ষেপ নিচ্ছে বড়ো অর্থনীতির দেশগুলো। গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ) ৩৭ বিলিয়ন ইউরোর প্যাকেজ ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। জার্মানির অর্থমন্ত্রী ওলফ শোলজ বলেছেন, আর্থিক ক্ষতিতে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো আংশিক জাতীয়করণ করা হতে পারে। বিমান ব্যবসায় ধস নামায় নরওয়ে ইতিমধ্যে বিমান সংস্থাগুলোর কিছু কর প্রত্যাহার করেছে। বিবিসির সংবাদ অনুযায়ী ইউরোপের ১ লাখ প্রতিষ্ঠানের ঋণের গ্যারান্টিও দেওয়া হবে। যতই দিন যাচ্ছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অর্থনীতির গতি নিম্নমুখী         হচ্ছে। বিশ্বের শেয়ারবাজারগুলো গেল দুই সপ্তাহ ধরে পতন দেখল। বিশ্বমন্দার পর এমন পতন আর হয়নি শেয়ারবাজারে। আগের অর্থনৈতিক মন্দায় বিশ্ব যে ক্ষতি দেখেছে, সেটির পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেই চেষ্টাই করছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। বিনিয়োগ ঠিক রাখতে প্রায় সব বড়ো অর্থনীতির দেশ কেন্দ্রীয়ভাবে সুদের হার কমিয়েছে। তবে অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কা কমেনি। জেপি মর্গানের হিসাব অনুযায়ী পরপর আগামী দুই প্রান্তিকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। চলতি বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০১৯ সালের চেয়ে অর্ধেক কমে যাবে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিতে ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের লোকসান ঘটাবে, যা গোটা যুক্তরাজ্যের জিডিপির সমান। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ মন্দায় পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার সূচকে দেখা গেছে, বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ ধনী গত সপ্তাহে ৩৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার হারিয়েছন। এতে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত তাদের অর্থ হ্রাসের পরিমাণ ৯৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়াল। অর্থাত্, প্রায় ট্রিলিয়ন ডলার খুইয়েছেন তারা। করোনা ভাইরাস আতঙ্ক এবং তেলের দাম কমে যাওয়ায় বড়ো ক্ষতিতে পড়েছে তারা। শেয়ারবাজারে দরপতনের কারণে বিশ্বের সব প্রান্তের এবং সব শিল্পের বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ কমেছে। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বিশ্ববাজারে যে প্রভাব পড়েছে, তাতে অতিধনীদের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন অনেকেই। উন্নত বিশ্বের প্রায় সবাই অর্থনীতির ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সচেষ্ট হয়েছে। কিন্তু সারা বিশ্বের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে সরবরাহব্যবস্থায় যে ক্ষতি হবে, তা কাটিয়ে উঠতে বেশ কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। ইতিমধ্যে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট খাতে ৫ কোটি চাকরি খোয়ানোর আশঙ্কা করেছে ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল (ডব্লিউটিটিসি)। প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের ঘরে বসে কাজ করতে বলছে। বিবিসির সংবাদ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্টিভেন মানুচিন বলেছেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাব অর্থনীতির ক্ষতি কাটাতে ফেডারেল রিজার্ভের সঙ্গে কাজ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। বাজারে তারল্য ঠিক রাখা এবং বাজার সচল রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।