২০১৮ সালের বিশ্ব বাস্তবতা

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:১৬

২০১৮ সাল এক্ষণে অন্তিম লগ্নে। গোটা বত্সর জুড়িয়া সারা পৃথিবীতে এমন অনেক ঘটনাই ঘটিয়াছে যাহার রেশ আসন্ন বত্সর কিংবা তত্পরবর্তী সময়ে অনুভূত হইবে বলিয়া অনুমান করা যায়। বিশ্ব রাজনীতির জন্য তাত্পর্যপূর্ণ একটি শুভ উদ্যোগের মধ্য দিয়া চলতি বত্সরটি শুরু হইয়াছিল। জানুয়ারি মাসের শুরুতেই জন্ম-বৈরী প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশে আলোচনা শুরু করিবার আহ্বান জানায় দক্ষিণ কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু প্রকল্প, দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতিসহ নানাবিধ কারণে দীর্ঘদিন ধরিয়া আলাপ বন্ধ থাকিবার পরে, এহেন উদ্যোগে বিবাদ মীমাংসার দারুণ আবহ তৈরি হয়। দুই দেশ পুরা বত্সর জুড়িয়া এই প্রবণতা অব্যাহতও রাখে। মার্চ মাসের শুরুতে ইউরোপ হইতে নেতিবাচক খবরের জন্ম দেয় ইতালি। ভূমধ্যসাগরীয় এই দেশটির নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থিদের বিপুল বিজয় শরণার্থী-অভিবাসী সম্প্রদায়সহ মহাদেশীয় উদার গণতন্ত্রীদের মধ্যে আশঙ্কার জন্ম দেয়। একই মাসে চীনে শি জিনপিং তাহার ক্ষমতাকে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে আজীবনের জন্য স্থায়ী করিয়া ফেলিতে সক্ষম হন। ইহা লইয়া চীনে কোনো প্রতিবাদ হইবার খবর পাওয়া যায় নাই। মে মাসের শুরুতে আসিয়া আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় খবরের জন্ম দেন। ইরান পরমাণু প্রকল্প বিষয়ক সকল বিধি-নিষেধ মান্য করিতেছে মর্মে সকল পক্ষ মনে করিলেও, ট্রাম্প আমেরিকাকে এই বিষয়ক চুক্তি হইতে বাহির করিয়া লইয়া আসেন। আগস্ট মাসে আসিয়া তিনি দেশটির উপরে নূতন করিয়া অবরোধও আরোপ করিয়া বসেন। এই কর্মের পিছনে কোনো সুনির্দিষ্ট যুক্তি বিশ্লেষকেরা দেখিতে পান নাই। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসিয়া ট্রাম্প ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরাইয়া লইয়া যান। এহেন কাণ্ডের ফলে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল বিরোধ গভীরতর হইবার বাস্তবতা থাকিলেও ট্রাম্প সেইদিকে নজর রাখেন নাই।

এই বত্সরের জুন মাসে আসিয়া উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথমবারের মতো শীর্ষ বৈঠককে বত্সরের অন্যতম ইতিবাচক একটি ঘটনা হিসাবে বর্ণনা করা যাইতে পারে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু প্রকল্প লইয়া চরম সংকট এই বৈঠকের মধ্য দিয়া কিছুটা হইলেও প্রশমিত হয়। গোটা বত্সর জুড়িয়া আমেরিকা ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যবিরোধ চলিতে থাকিলেও, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে তাহা চূড়ান্ত রূপ পায়। প্রথমে আমেরিকা এবং অনতিবিলম্বে চীন প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের বাণিজ্য-কর বসাইয়া দেয়। এই দুই পরাশক্তির আস্ফাালনে বিশ্ব অর্থনীতি নূতন করিয়া আক্রান্ত হইবার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। ব্রেক্সিট লইয়া ব্রিটেন সারা বত্সর জুড়িয়াই বিপাকে পড়িয়া থাকে। চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাত্র মাসতিনেক বাকি থাকিলেও, ব্রিটেন এখনো কোনো সুরাহায় পৌঁছাইতে পারে নাই।

এইসব ঘটনার বাহিরে দীর্ঘকাল ধরিয়া চলমান ফিলিস্তিন সংকট কিংবা সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সংকটের কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ হইয়াছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। মধ্যপ্রাচ্যে অনেক প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হইয়াছে। সিরিয়াতে গৃহযুদ্ধের আপাত অবসান ঘটিলেও শেষাবধি একনায়কের হস্তে ক্ষমতা রহিয়া গিয়াছে। বহুমাত্রিক এই বাস্তবতাকে সঙ্গী-সাথী করিয়াই নূতন বত্সর শুরু হইবে। তথাপি আশায় বুক বাঁধিয়া সবাইকে বলিতেই হইবে, হ্যাপি নিউ ইয়ার।