১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগের ক্ষেত্রে বাঙালিদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। অথচ, বেঈমান পাকিস্তান এখনো সেই অবদান স্বীকার করতে চায় না। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যার মাত্র ৭% উর্দুতে কথা বললেও ১৯৪৮ সালে জিন্নাহ সাহেব ঢাকায় এসে ঘোষণা দিলেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ বাংলার মানুষ এটা মেনে নেয়নি। বাংলাভাষার ওপর যারা আঘাত করতে চেয়েছিল, বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দিয়েছিল তাদের। শুধু মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস নয়, বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস বেশ পুরোনো। সুদীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পাকিস্তান আমাদের শোষণ করেছে। ধ্বংস করতে চেয়েছিল আমাদের আত্মবিকাশের সকল সম্ভাবনা। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে আজ আমরা পোশাক রপ্তানি করে পাকিস্তানের চাইতে অনেক বেশি টাকা আয় করছি। পাকিস্তানের মোট বিদ্যুতের মাত্র ১৭ ভাগ পেতো পূর্ব পাকিস্তান, ৮৩ ভাগ চলে যেতো পশ্চিমে! আজ বাংলাদেশের ৯৪ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত্ সেবার আওতায়, যা পাকিস্তানের তুলনায় বেশি। পাকিস্তানের মোট আয়ের ৬০ শতাংশ আসত পূর্ব পাকিস্তান থেকে, আর ৪০ শতাংশ আসত পশ্চিম পাকিস্তান থেকে। অথচ, পূর্ব পাকিস্তানকে দেওয়া হতো মাত্র ২৫ শতাংশ! এই ২৫ শতাংশের মধ্যেও অনেক টাকা লোপাট হয়ে চলে যেতো পশ্চিম পাকিস্তানে। অথচ আজ দেখুন, পাকিস্তানের অর্থনীতি তীব্র কষাঘাতে লিপ্ত। পাকিস্তানের রুপির দরপতন হয়েছে এবং বাংলাদেশের টাকারও নিচে নেমে গিয়েছে! খাতা-কলমের হিসেবে প্রায় অর্ধেক, অর্থাত্ পাকিস্তানের এক রুপির বিনিময় মূল্য ০.৬০ টাকা! পাটশিল্পের উন্নয়নের জন্য পূর্ব পাকিস্তানকে ৬০ মিলিয়ন অর্থ সহযোগিতা দিয়েছিল চীন। অথচ এর পুরোটাই চলে যায় পশ্চিমে। কিন্তু পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তানের আয় থেকেই এর ঋণ শোধ করা হয়। চীনের বিলিয়ন বিলিয়ন ঋণ শোধ করতে আজ ঘাম ঝরছে পাকিস্তানের। ‘ইতিহাসের প্রতিশোধ’ বুঝি একেই বলে! আমাদের শিক্ষাখাতকে একেবারে ধ্বংস করতে চেয়েছিল পাকিস্তান। বাঙালিদের বিদ্যা অর্জন তাদের কাছে ছিল তামাশার বিষয়। শিক্ষাখাতের জন্য বরাদ্দ পূর্ব পাকিস্তানের টাকাও চলে যেতো পশ্চিম পাকিস্তানে। শোষণ-বঞ্চনার অন্তিম পর্যায় ছিল বাঙালিদের চাকরিক্ষেত্রে নিয়োগ। সিভিল সার্ভিসের মাত্র ১৬ শতাংশ ছিল বাঙালিদের জন্য বরাদ্দ। পররাষ্ট্র, প্রশাসন, প্রতিরক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাঙালিদের জন্য ২০ শতাংশের বেশি বরাদ্দ ছিল না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা পাঁচ শতাংশেরও নিচে! অথচ দুই অংশের মধ্য বাঙালিরাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে পাকিস্তানিরা যে তাণ্ডব চালিয়েছিল, তা ইতিহাসে নািস বাহিনীর থেকেও জঘন্য! ৩০ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি এই সোনার বাংলাদেশ। এগিয়ে চলেছি দুর্বারগতিতে। প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাচ্ছি পাকিস্তানকে। বাঙালি যে পরিশ্রমী জাতি, তা পুরো বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে হবে। বিজয়ের নতুন বছর কল্যাণ বয়ে আনুক আমাদের সবার জীবনে, এই কামনা করি।
n লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
