শখ বলতে আমরা বুঝি মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা রুচিশীল কাজের প্রতিবিম্ব। কারও জন্য শখ মানে শুধুই বিনোদনের খোরাক, আবার কারও জন্য শখ মানে ঐ কাজের প্রতি নেশা বা গভীর টান, আবার কিছু শখ হলো সর্বজন গৃহীত। সুপরিচিত ব্যক্তিদের লালন করা শখের বিষয়গুলো সহজেই সাধারণ মানুষদের আকর্ষণ করে। অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি তাদের বিচিত্র শখের জন্য আলোচিত। কেউ কেউ সুপরিচিত ব্যক্তিদের এ শখের ব্যাপারটিকে অনুকরণ বা অনুসরণ করে অনেকটা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।
আজকের প্রতিবেদনে থাকছে কয়েকজন সুপরিচিত ব্যক্তির বিচিত্র কিছু শখের কথা। লিখেছেন অনামিকা তিথি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বাংলা ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শখ সম্বন্ধে সাধারণ মানুষের কৌতূহল অনেক বেশি। জ্ঞানের এক শক্তিশালী অস্ত্র হলো কলম। বিভিন্ন ডিজাইনের কলম সংগ্রহের শখ ছিল বিশ্বকবির। অনেকেই ভাববেন কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার শখের কলমগুলো লেখার কাজে ব্যবহার করেন। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন, তিনি সেই কলমগুলো দিয়ে খাতায় একটি আঁচড় কেটেও দেখতেন না। এ কারণেই বিশ্বকবির এই শখ বড় বিচিত্র।
অ্যাডলফ হিটলার
অনেকের চোখে তিনি হিরো, আবার অনেকের চোখে তিনি ভিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস তৈরির অন্যতম কারিগর এক নায়ক হিসেবে কুখ্যাত অ্যাডলফ হিটলার। হিটলারের বিচিত্র শখও চমকে দেওয়ার মতো। তার অদ্ভুত শখের মধ্যে ভায়োলিনের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। অ্যাডলফ হিটলার ছোটবেলা থেকেই ভায়োলিন বাজাতে পারদর্শী ছিলেন। সেই সময়ে তিনি জার্মানির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভায়োলিন বাদক ছিলেন। হিটলারের নির্দেশে যত খুন ও হত্যাযজ্ঞ করা হয়েছে এর প্রত্যেকটির পর তিনি তার ভায়োলিনটি বাজিয়ে দুঃখ প্রকাশ করতেন।
আলেক্সান্ডার ডুমা
রঙিন কাগজের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে নান্দনিক শিল্প। রঙিন কাগজ দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। ফরাসি নন্দিত সাহিত্যিক আলেক্সান্ডার ডুমার অদ্ভুত এই শখটি রঙিন কাগজের সাথে জড়িত। এমনকি, তিনি তার শখকে নিজের পেশার সঙ্গে জুড়ে নিয়েছিলেন। এই তথ্য বেশ প্রচলিত যে, ফরাসি লেখক নীলরঙের কাগজে উপন্যাস লিখতেন, গোলাপি রঙের কাগজ রেখেছিলেন কবিতা লেখার জন্য এবং পত্রিকায় ছাপানোর জন্য তিনি লেখা পাঠাতেন হলুদ রঙের কাগজে।
চার্লস ডিকেন্স
একেকজন মানুষের ঘুমানোর স্টাইল একেকরকম। কেউ ডান দিকে কাত হয়ে ঘুমান, কেউ বামে, চিত্ বা উপুড় হয়ে ঘুমান। চার্লস ডিকেন্সের এই অদ্ভুত শখটি ঘুমানোর স্টাইলের সঙ্গে সম্পর্কিত। চার্লস ডিকেন্স যিনি ভিক্টোরিয়ান যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইংরেজ ঔপন্যাসিক সুপরিচিত। এই ইংরেজ ঔপন্যাসিক সবসময় উত্তর দিকে মাথা রেখে ঘুমাতেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে এভাবে ঘুমানোর ফলে তার লেখালেখিতে প্রভূত উন্নতি হবে।
লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি
মোনালিসা চিত্রকর্মটি যতটাই পুরনো এটা নিয়ে বিতর্কও ততটাই পুরনো। মোনালিসার মুখের হাসির রহস্য উন্মোচনের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তি থাকলেও ইউরোপীয় রেনেসাঁ যুগের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী মোনালিসার স্রষ্টা লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির অমর কীর্তি প্রশংসনীয়। ভিঞ্চির শখটিও যথেষ্ট অদ্ভুত। তিনি বাজার থেকে বিভিন্ন দামের ও বিভিন্ন জাতের পাখি কিনতেন। তবে অদ্ভুত ব্যাপার ছিল তিনি পাখিগুলো পুষতেন না। তিনি পাখিগুলোকে মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দিতেন।
আগাথা ক্রিস্টি
এবারের অদ্ভুত শখটি লেখালেখি বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। আমরা সবাই চেয়ার বা টেবিলে বসে লেখালেখি করে থাকি। কিন্তু ইংরেজ অপরাধ কল্পকাহিনির প্রথিতযশা লেখক আগাথা ক্রিস্টি জীবনে কখনো চেয়ার বা টেবিলে বসে লিখতেন না। কখনো রান্না ঘরে রান্না করতে করতে বা ট্রেনে ভ্রমণ করতে করতে অথবা হোটেল রুমে বসে তার লেখালেখি চালিয়ে যেতেন। তার চেয়ার-টেবিলে বসে লেখার অভ্যাস যেমন ছিল না, এমনকি তার কোনো নিজস্ব অফিস ছিল না।
