আংগারপাড়া ইউনিয়নের শেরুপাড়া নামক স্থানে অবস্থিত ২৫৪ বছরের পুরনো স্থাপত্য আওকরা মসজিদ। তত্কালীন মীর্জা সাহেব মসজিদটি প্রতিষ্ঠার সময় কী নাম রেখেছেন তা কেউ বলতে পারেন না। কোনো মানুষ মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এটির মধ্যবর্তী অংশে দাঁড়িয়ে কথা বললে এক সময় জোরে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হতো।
মো. আমিরুজ্জামান
বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে মসজিদ তৈরি হয়েছে। আর বেশিরভাগ মসজিদের নাম পীর, আউলিয়া ও এলাকার নামে হয়েছে। এর মধ্যে ব্যতিক্রম আওকরা মসজিদ বা কথা বলা মসজিদ অন্যতম। সৈয়দপুরের পার্শ্ববর্তী খানসামার পাকেরহাটে গ্রামে অবস্থিত আড়াইশ’ বছরের পুরনো স্থাপত্য আওকরা মসজিদ। বর্তমানে স্থানীয় এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে ঝোপ-জঙ্গল সাফ করে গত ৩ বছর ধরে মসজিদটিতে নামাজ আদায় করার উপযোগী করলেও ঝুঁকিপূর্ণ আওকরা মসজিদের দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা যায়।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনাজপুরের খানসামার পাকেরহাট গ্রাম ও মীর্জার মাঠের সীমানাসংলগ্ন আংগারপাড়া ইউনিয়নের শেরুপাড়া নামক স্থানে অবস্থিত ২৫৪ বছরের পুরনো স্থাপত্য আওকরা মসজিদ। তত্কালীন মীর্জা সাহেব মসজিদটি প্রতিষ্ঠার সময় কী নাম রেখেছেন তা কেউ বলতে পারেন না। কোনো মানুষ মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এটির মধ্যবর্তী অংশে দাঁড়িয়ে কথা বললে এক সময় জোরে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হতো। তাই শুনে তারা ভাবতো মসজিদটি তাদের কথার উত্তর দিচ্ছে। এ থেকে মসজিদের নাম হয়ে যায় আওকরা মসজিদ অর্থাত্ কথা বলা মসজিদ। এখনও মানুষ পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শব্দ করে কথা বলে প্রতিধ্বনি শোনার আশায়। কিন্তু মসজিদের দেয়াল নষ্ট এবং এর গায়ে আগাছা জন্মানোয় আগের মতো আর আওয়াজ হয় না। এটি অযত্ন-অবহেলায় দীর্ঘকাল সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে বিলীনের পথে, অথচ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক এটি ঐতিহ্যবাহী প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষণার ১ বছর হলেও সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
উপজেলা পরিসংখ্যানের তথ্য মতে, এ মসজিদটি প্রায় ২৫৪ বছর আগে মীর্জা লাল বেগ নির্মাণ করেন। চিকন ইটে নির্মিত দেয়ালে নকশা করা মসজিদটি উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বেলান নদীর পূর্ব ধারে পাকেরহাট গ্রাম ও মীর্জার মাঠের সীমানাসংলগ্ন স্থানে অবস্থিত। ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা ধারণা করেন, এক সময় মসজিদটির আশেপাশে মুসলিম জনবসতি ছিল। যে কারণে এখানে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল এবং ব্রিটিশ সরকারের আমলে অথবা অন্য কোনো কারণে তারা মসজিটির আশেপাশের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে এটি অযত্ন-অবহেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় দীর্ঘকাল পড়ে থাকে। পরবর্তীতে সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে থাকে মসজিদটি। তবে মীর্জা লাল বেগের ওই মসজিদকে ঘিরে মীর্জার মাঠে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠত হয়। যা পরে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এছাড়াও একই স্থানে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মীর্জার মাঠ আওকরা মসজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে আরও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়।
মসজিদ সংস্কারের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম মোকছেদুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকাবাসীর উদ্যোগে মসজিদটি পরিষ্কার করে নামাজ পড়ার উপযোগী করে তুলেছি। কিন্তু দেয়ালের ফাটলের কারণে আতঙ্কে থাকতে হয়, তাই প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ যদি দ্রুত সংস্কার করে তাহলে এটি হতে পারে দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান।’
মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. মফিজ উদ্দিন জানান, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মসজিদটি পরিষ্কার করে টিনের ছাউনি, মাইক ও নলকূপ স্থাপন করে নামাজ আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে, কিন্তু এটি দ্রুত সংস্কার না হলে ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনটি ধ্বংস হয়ে যাবে ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, ‘সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষিত মসজিদটি দ্রুত সংস্কারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আশা করি দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।’
