মহেশপুরে ১৫০ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২০, ২১:৪১

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ১৫০ জনকে রবিবার থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের ১৪ দিন বাড়ি থেকে বের না হতে বলা হয়েছে। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা খাতুন জানান, মহেশপুর উপজেলায় ৩১ জন প্রবাসী ইতালি, চীন, দুবাই, কুয়েত, ভারত ও মালয়েশিয়া থেকে বিভিন্ন গ্রামে আসে। তারা নিজ নিজ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। রবিবার সকালে খবর পেয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তাদের বাড়িতে যায়। বিদেশ থেকে আসা ৩১ জন ও তাদের পরিবারের ১০২ জনকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এদিকে, ঝিনাইদহ শহরে চালু না হওয়া শিশু হাসপাতালে করোনা চিকিত্সার জন্য ২০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সেখানে ডাক্তার ও নার্স মোতায়েন করা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর, কালীগঞ্জ ও মহেশপুর উপজেলায় এ পর্যন্ত ১৬৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হলো। কালীগঞ্জ শহরের ফয়লা এলাকায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ১২ জনের মধ্যে গোবিন্দ দাস বাড়ি থেকে মাঝে মাঝে তার দোকানে আসছেন। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শামীমা শিরিন বলেন, এ কথা জানার পর তাকে বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

গৌরনদীতে চার জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, বরিশালের গৌরনদীতে ইতালিফেরত চার প্রবাসীকে গত ১০ মার্চ থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাদের কারো শরীরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ  নেই। বাটাজোর ইউপির সাবেক সদস্য মো. ইদ্রিস সরদার বলেন, গত ২ মার্চ তার চাচাতো ভাই জুয়েল সরদার, প্রতিবেশী কবির হাওলাদার ও তার স্ত্রী, পুত্র ইতালি থেকে ঢাকায় আসেন। তারা সাত দিন ঢাকায় ছিলেন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৯ মার্চ গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর গ্রামের নিজ বাড়িতে আসেন। এরপর পার্শ্ববর্তী বাটাজোর বাজারে গেলে থানাপুলিশ নিরাপত্তার কথা বলে তাদের সতর্ক করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি টিম গত ১০ মার্চ সকালে চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বরিশাল সিভাল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন জানান, ইতালি ফেরত ঐ চার প্রবাসীর সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। তাদের প্রত্যেককে ১৪ দিন পারিবারিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চাঁদপুরে ১৯ দিনে ৬৪৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এ পর্যন্ত ৬৪৮ জনকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ থাকার নির্দেশ দিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত চাঁদপুরে বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত এসেছেন ৬৪৮ ব্যক্তি। আমরা তাদের তথ্য সংগ্রহ করে যার যার নিজ নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করেছি। তাদেরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সালাহউদ্দিন মাহমুদ জানান, আমাদের মাঠকর্মীদের মাধ্যমে প্রবাসীদের কাছে স্বাস্থ্যকার্ড আছে কি না যাচাই-বাছাই করা এবং আগত প্রবাসীদের স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিউলি হরি জানান, গত ১০ দিনে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় প্রায় দেড় শতাধিক প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। তাদের সকলের ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন। মতলব-উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান মিথেন জানান, মতলব-উত্তর উপজেলায় ইতালিফেরত দুদু মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে পরীক্ষা করা হয়। একদিন পরে ঢাকা থেকে পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পরে জানা গেছে তার শরীরে করোনা ভাইরাস নেই।

হোমনায় পাঁচ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

হোমনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, বিদেশ থেকে আসা হোমনা উপজেলার পাঁচ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন ইতালি থেকে, একজন ওমান থেকে আর তিন জন সৌদি আরব থেকে এসেছে। হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুস সালাম জানান, তারা পাঁচ জনই সুস্থ আছেন। রবিবার এরা বিদেশ থেকে দেশে এসে বাড়িতে আসে। তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

ছাগলনাইয়ায় দুই জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

ছাগলনাইয়া (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার পৌরসভা ও পাঠাননগর ইউনিয়নে ইতালি থেকে ফেরা দুই জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি ঐ দুই ব্যক্তি ইতালি থেকে দেশে আসেন। খবর পেয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা প্রবাসীদের বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলেন। গত শনিবার রাতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার কথা নিশ্চিত করেছেন ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শিহাবউদ্দিন। তিনি জানান, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনো উপসর্গ নেই। তারা দুই জনই সুস্থ রয়েছেন।

রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় ৯৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

স্টাফ রিপোর্টার রাজশাহী জানান, বিভাগের আট জেলায় রবিবার সকাল পর্যন্ত ৯৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তারা সবাই বিদেশ ফেরত। তবে এখন পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগের কোথাও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য। তিনি জানান, যারা বিদেশ থেকে এসেছেন তাদের নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। প্রত্যেকেই স্বাস্থ্য বিভাগের পর্যবেক্ষণে আছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, রাজশাহী জেলায় চার জন, নওগাঁয় ২৮, বগুড়ায় ২০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৭, পাবনায় ১০, নাটোরে ১১, জয়পুরহাটে চার ও সিরাজগঞ্জে একজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এরা সম্প্রতি বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। ১৪ দিন তাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে।

  জুড়ীতে একজন হোম কোয়ারেন্টাইনে

জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, ফ্রান্স ফেরত এক প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, জুড়ীর ফুলতলা (বটুলি) স্থলবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রবিবার থেকে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সমরজিত্ সিংহ জানান, ফ্রান্স ফেরত এক প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

নরসিংদীতে ১৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, এ পর্যন্ত ১৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. ইব্রাহিম টিটন বলেন, রবিবার সকাল পর্যন্ত ১৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদী সদর উপজেলায় তিন জন, পলাশ উপজেলায় তিন জন, শিবপুর উপজেলায় তিন জন, মনোহরদী উপজেলায় দুই জন ও রায়পুরা উপজেলায় চার জন। এরা সবাই ইতালি, সৌদী আরব, দক্ষিণ কোরিয়া ও দুবাই ফেরত। তারা বিগত দশ দিনের মধ্যে দেশে এসেছেন।

আক্কেলপুরে যুবক হোম কোয়ারেন্টাইনে

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা জানান, জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সিঙ্গাপুরফেরত এক যুবককে (২৫) শনিবার রাত থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সে আক্কেলপুর পৌর সদরের শ্রীকৃষ্টপুর মধ্যপাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয় ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ঐ যুবক শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাধেশ্যাম আগরওয়ালা বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। আমরা তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছি।