শেয়ারবাজার...

ডিএসইর সূচক ৪ হাজারের নিচে নামল

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২০, ২১:৪৭

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড়ো দরপতন হয়েছে। গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই সূচক নিম্নমুখী ছিল। তবে শেষ বেলায় পতনের মাত্রা কিছুটা কম ছিল। লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৬০ পয়েন্ট কমে ৩ হাজার ৯৬৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এর মাধ্যমে পাঁচ বছর পর সূচকটি ৪ হাজার পয়েন্টের নিচে নামল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতকাল শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ১০০ পয়েন্টের ওপরে পড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে পতনের মাত্রা। ফলে একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৩৪ পয়েন্ট পড়ে যায়। তবে শেষ দিকে এসে পতনের মাত্রা কিছুটা কমে। ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে মহাধসের পর ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি ডিএসইর সূচকে পরিবর্তন আনা হয়। বাজারটিতে প্রধান মূল্য সূচক হিসেবে চালু করা হয় ডিএসইএক্স। শুরুর দিন সূচকটির ভিত্তি পয়েন্ট ছিল ৪ হাজার ৫৫ পয়েন্ট। এরপর কিছুদিন সূচকটির পতন হলে ৪ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে আসে।

তবে ২০১৩ সালের ১০ জুন আবার ৪ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে সূচকটি। এরপর ২০১৫ সালে আবার পতন দেখা দিলে ৪ মে সূচকটি আবার ৪ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে আসে। অবশ্য পরের কার্যদিবসেই তা ৪ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। এরপর আর ৪ হাজার পয়েন্টের নিচে নামেনি ডিএসইএক্স। তবে বড়ো পতনের কবলে পড়ে গতকাল আবার সূচকটি ৪ হাজার পয়েন্টের নিচে চলে এলো।

গতকাল ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠান নাম লেখাতে পেরেছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৩৮টির। আর সাতটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। পতনের কারণে ডিএসই-৩০ সূচক ৪৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৩৩ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ ৩১ পয়েন্ট কমে ৯২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল লেনদেন শুরুর দুই ঘণ্টার মধ্যে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ২৩৪ পয়েন্ট পড়ে গেলে বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধিদল লেনদেন বন্ধ করার দাবি নিয়ে রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসইর অফিসে যায়। সেখানে ডিএসইর এমডি, সিওও এবং সিএফওর সঙ্গ বৈঠক করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা ডিএসইর কাছে দুই সপ্তাহ লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছিলাম। তবে ডিএসইর এমডি আমাদের বলেছেন, ‘আগামীকাল থেকে শেয়ারবাজার ভালো হয়ে যাবে। তার কথার ওপর ভিত্তি করে আমরা দুই দিন বাজার পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই দুই দিনের মধ্যে বাজার ভালো না হলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

এদিকে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়া যাবে না, ধৈর্য ধরতে হবে। আতঙ্কে পেনিক সেল না দিয়ে শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সবাই বাজার ভালো করতে চেষ্টা করছে। সুতরাং আমি বিশ্বাস করি, এই বাজার ভালো হবে।’

শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখতে বিনিয়োগকারীদের দাবির বিষয়টি তুলে ধরা হলে তিনি বলেন, এটা সম্ভব নয়। কারণ আমাদের এখানে শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার আইন নেই। ভারতের শেয়ারবাজারে সার্কিট ব্রেকার আছে। পতন অথবা উত্থানের কারণে সূচক সেই সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করলে লেনদেন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু আমাদের বাজারে সূচকের কোনো সার্কিট ব্রেকার নেই। কাজেই এটি করা যাবে না।

গতকাল দরপতনের সঙ্গে ডিএসইতে দেখা দেয় লেনদেনে খরা। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৭৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৪০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

অপর শেয়ারবাজর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই ৪৮৯ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ১৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩৪টির এবং চারটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।