সৌদি রাজ পরিবারে কেন ধরপাকড়?

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২০, ২১:৫১

তালেব রানা

 

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পশ্চিমা বিশ্বে এমবিএস নামে পরিচিত। তবে এই পরিচিতি এসেছে তার বাবা বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ সিংহাসনে আসার পর। এর আগে এমবিএস সিংহাসনের উত্তরাধিকারও ছিলেন না, বরং বাদশাহ সালমানের পর সৌদির ক্ষমতায় আসার কথা ছিল প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফের। কিন্তু এমবিএস সুচারুভাবে নায়েফকে সরিয়ে নিজে সিংহাসনের উত্তরাধিকার হয়েছেন। বিশ্বের শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করে শুধু সৌদি আরব নয়, মধ্যপ্রাচ্যের এক ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এমবিএস সৌদি আরবে বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে পশ্চিমা দুনিয়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবে শত শত মানবাধিকার কর্মী ও নারী অধিকারকর্মীকে আটক করে সমালোচিতও হয়েছেন। সমালোচনা হয়েছে ইয়েমেন যুদ্ধে তার ভূমিকা নিয়েও। কিন্তু তিনি সবচেয়ে বড়ো বেকায়দায় পড়েন ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। তবে পশ্চিমাদের অভিযোগের মুখে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েন এমবিএস।

তবে হঠাত্ করে আবারও আলোচনায় সৌদি আরবের ক্ষমতাধর এই যুবরাজ। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সৌদি রাজপরিবারের প্রভাবশালী কয়েকজন সদস্য ও কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। এরপর অনেকেই বলছেন, এমবিএস সিংহাসনে বসার ক্ষেত্রে যাদেরকে বাধা মনে করছেন তাদের সরানোর অংশ হিসেবেই এই আটকের ঘটনা। এছাড়া বাদশাহ সালমানের বয়স বাড়তে থাকায় তার জীবদ্দশাতেই যুবরাজ এমবিএস শাসক হতে চাইছেন।

যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন, বাদশাহ সালমানের ছোটো ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুল আজিজ এবং তার ভাইয়ের ছেলে ও সাবেক যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ এবং তার এক ভাই। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই গ্রেফতারের ঘটনাটি রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। যদি সাবেক যুবরাজকেও গ্রেফতার করা যেতে পারে, তবে যেকোনো প্রিন্সকে আগামীতে গ্রেফতার করা হতে পারে।

মিডলইস্ট আই সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আটকের এই ঘটনাটি ছিল আসলে ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি উদাহরণ। আগামী নভেম্বরে রাজধানী রিয়াদে জি-২০ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যেন বাদশাহ হতে পারেন সেই চেষ্টাই করা হয়েছে। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যুবরাজ উদ্বিগ্ন রয়েছেন। এজন্য তিনি তার ক্ষমতাকে আরো সংহত করতে চাইছেন।

আলজাজিরার এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, এমবিএস তার প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রিন্স আহমেদ এবং মোহাম্মদ বিন নায়েফকে হুমকি মনে করছেন। সৌদি সিংহাসনে এই দুই জনের বসার বৈধতা আছে! ভবিষ্যতে এমবিএসকে প্রত্যাখ্যান করে রাজপরিবারের সদস্যরা তাদের কাউকে সমর্থন দিতে পারেন বলে আশঙ্কা ছিল এমবিএসের। এই গ্রেফতারের মাধ্যমে এমবিএস রয়েল কোর্টের সম্মতি নিশ্চিত করতে চাইছেন।

সাবেক বাদশাহ আবদুল্লাহর একজন উপদেষ্টা যিনি রয়েল কোর্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, তার মতে—এই গ্রেফতারের অন্যতম কারণ এমবিএসের প্রতি প্রিন্স আহমেদের আনুগত্য না থাকা। রয়েল এলিজিন্স কাউন্সিলের তিন সদস্যের একজন হলেন প্রিন্স আহমেদ। এই কাউন্সিল সিংহাসনের উত্তরাধিকারকে অনুমোদন দেয়। আর এমবিএস মনে করছেন, ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় তিনি সিংহাসনে না আসতে পারলে আর কখনোই বাদশাহ হতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা গ্লেন কার্লের মতে, যদি মার্কিন প্রশাসনে পরিবর্তন আসে, তাহলে রিয়াদের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের মনোভাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। তাই হিসাব কষেই এ পদক্ষেপ নিয়েছেন এমবিএস!