জাতীয় স্কুল হকি
স্পোর্টস রিপোর্টার
রংপুরে কেরামতিয়া একজন অলির নাম। তার নামেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ রয়েছে বলে জানালেন জাতীয় স্কুল হকির চ্যাম্পিয়ন রংপুরের কেরামতিয়া হাইস্কুলের কোচ আবু সাঈদ। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অপরিচিত। কিন্তু কাল হকি স্টেডিয়ামে ঢাকার দল আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়কে (২-০) হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছে তাদের হকির উত্থান। বিশাল ও রেজাউল গোল করেছেন। টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় রানার্সআপ দলের গোলকিপার সুরাজ দাস, রাজশাহী জাহিদ হোসেন সর্বোচ্চ গোলদাতা, চ্যাম্পিয়ন দলের মুহতাসিন মামুন সেরা গোলকিপার।
নানা অভাব-অনটনের মধ্যেও ভালো সাফল্য পাওয়া যায়, পরিশ্রম করলে সেটা বৃথা যায় না তার প্রমাণ দিয়েছেন খুদে খেলোয়াড়রা। বিশাল, ইলিয়াস, আয়ন, মানিক, জিহান, মুহতাসিন, আসাদুজ্জামান, নাজিম, রেজাউল, সিফাত, হাসান, ইলিয়াস, আল আমিন, অছিবুর, আরাবি, সম্রাটদের কষ্ট বিফলে যায়নি।
হকি স্টেডিয়ামে এসে একটা রুমের মধ্যে গাদাগাদি করে থাকতে হয়েছে চূড়ান্ত পর্বের খেলা চালাকালীন। ড্রেসিং রুমের মেঝেতে সবাইকে ঘুমাতে হতো। খেলোয়াড়, কোচ একসঙ্গে মেঝেতে ঘুমাতে হয়েছে। বাথরুমে যেতে হলে লাইন ধরতে হতো। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে হকি খেলতে হলে হকি স্টিক দরকার হয়। এটা ফুটবল না যে একটা ফুটবল দিয়ে ২২ জন খেলবে। হকি খেলতে হলে সবার হাতে হকি স্টিক থাকতে হবে। কিন্তু কেরামতিয়া হাইস্কুলের হকি স্টিক নেই। ধার-কর্জ করে হকি স্টিক নিয়ে খেলতে হয়েছে। খেলোয়াড়রা জানালেন, যাদের খেলা থাকে না তাদের কাছ থেকে হকি স্টিক নিয়ে নামতে হয়েছে। তাদের কোচ বিভিন্ন দলের কাছ থেকে হকি স্টিক এনে তাদের হাতে দিয়েছেন, ‘আমরা খেলেছি। কষ্টটা অনেক। ড্রেসিং রুমে ঘুমানো খেলার সরঞ্জাম নেই। তারপরও আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। কষ্ট মনে হচ্ছে না এখন।’
ফেডারেশন থেকে যেসব হকি স্টিক দিয়েছিল সেগুলো ‘ভালো না’, বললেন রেজাউল। সুযোগ-সুবিধা নেই। গ্রামের ছেলেরা হারিয়ে দিল ২০০৩ এবং ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন আরমানিটোলার শহরের ছেলেদের। চ্যাম্পিয়ন স্কুলের ছেলেরা বলছিল তাদের এলাকায় একটা টার্ফ স্থাপন করা গেলে হকির চর্চাটা নিয়মিত হতো।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ৮০টি স্কুল নিয়ে চট্টগ্রামে জাতীয় স্কুল হকি শুরু হয়েছিল ২৫ জানুয়ারি। পরে ৯ ভেন্যুতে খেলা হয়ে ঢাকায় চূড়ান্ত পর্ব হলো। ফাইনালে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি।
