আমাদের শিক্ষাকে স্বাধীন দেশ উপযোগী করতে হবে ------আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২০, ২২:০৪

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থা মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কহীন। উন্নত দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে একটা লক্ষ্য থাকে। আমাদের শিক্ষাকে স্বাধীন দেশ উপযোগী করতে হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা অপরিহার্য।

তিনি গতকাল রবিবার পিরোজপুর জেলার সরকারি ইন্দুরকানী কলেজ এবং  ইন্দুরকানী মেহেউদ্দিন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পৃথক কর্মসূচিতে আরো বলেন, বাংলাদেশ আমলের ৪৯ বছর এবং পাকিস্তান আমলের ২৩ বছর মিলিয়ে ছয় যুগেও আমরা জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলনে প্রত্যাশিত সফলতা অর্জন করতে পারিনি। অবকাঠামোগত ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা, সুব্যবস্থাপনা, শিক্ষার পরিবেশ আনা জরুরি। জীবন বিচ্ছিন্ন ও পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে সম্পর্কহীন শিক্ষা দ্বারা মানুষের কল্যাণ হয় না। আমরা যুগ যুগ ধরে লেখাপড়ার কথা শুনে আসছি। পৃথিবীতে যারা সফলতা অর্জন করেছেন, মানুষকে কিছু দিতে পেরেছেন তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না বললেই চলে। আবার এই উপমহাদেশে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জুলফিকার আলী ভুট্টো প্রমুখ উচ্চশিক্ষিত নেতারা নেগোসিয়েশন করে নতুন রাষ্ট্র লাভ করেছিলেন। কিন্তু এ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা সফলকাম হয়নি। বরঞ্চ আন্দোলন, সংগ্রাম, যুদ্ধ করে লক্ষ প্রাণের বিনিময় আমাদের অর্জিত রাষ্ট্রের সফলতা অনেক। তিনি বলেন, আজ তাই স্বাধীনতা আর পরাধীনতার পার্থক্য অনুধাবন করে আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। দেশ স্বাধীন না হলে শিক্ষাক্ষেত্রসহ সকল দিকে অবকাঠামোগত উন্নতি সাধিত হতো না। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার ও সেবামুখী করতে দক্ষ জনবল সৃষ্টি করতে হবে। আমরা ২২ বছর ধরে দেশে লেখাপড়া করেছি এক ধরনের অনিশ্চিত লক্ষ্যের মধ্যে। যখন বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা করতে চেয়েছি তখন প্রশ্ন করা হয়েছে তুমি লেখাপড়া করে কী করতে চাও। অথচ দেশে এ প্রশ্ন কেউ করেনি। ৩৪ বছর সংসদে এবং ১৮ বছর সরকারে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সুশিক্ষা অর্জনের, প্রচলিত বা তথাকথিত শিক্ষা নয়।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেন, আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম তখনো সরকারি মদতপুষ্ট কিছু ছাত্র পেশিশক্তি প্রদর্শন করত। আজও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এই ধারার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে শিখতে হবে, নিজের অধিকার অর্জনে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান মাস গুরুত্বপূর্ণ মাস। ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। বছরব্যাপী আমরা মুজিববর্ষ পালন করছি বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে। অতীতের ধারাবাহিকতায় যে কথাটি এ সময় আবারও বলতে চাই, তা হলো—যে যে দলই করুন না কেন, উন্নয়নের প্রশ্নে আমাদের এক থাকতে হবে। দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। বিশেষায়িত শিক্ষাকে এখন গুরুত্ব দিতে হবে। কম্পিউটার, আইটি, ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া আবশ্যক। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সরকার শিক্ষা প্রদান করে। তাই সবাইকে ভালো করে পড়ালেখা করতে হবে। মানুষের উপকার করতে চাইলে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া অপরিহার্য।

সরকারি ইন্দুরকানী কলেজের অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান মতিউর রহমান অ্যাডভোকেট, কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুনিরুজ্জামান সিকদার বুলবুল, সহকারী অধ্যাপক জাকারিয়া হোসেন ও প্রভাষক শারমিন হোসেন। এ সময় মঞ্চে ছিলেন বিশেষ অতিথি জাতীয় পার্টি-জেপির ইন্দুরকানী উপজেলা সভাপতি আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন, জেপির উপজেলা সদস্য সচিব মো. শাহীন হাওলাদার, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ইন্দুরকানী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাগা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দিলরুবা মিলন নাহার প্রমুখ। সন্ধ্যার পরে মেহেউদ্দিন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ইউএনও হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.  সেলিম খান।

ভাণ্ডারিয়া সংবাদদাতা ফজলুর রহমান জানান, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল রবিবার সকালে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ভাণ্ডারিয়ায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন ও ভাণ্ডারিয়া থানা ভবনের নির্মাণকাজ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলমান খাল পুনঃখননের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসালাম মিরাজ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জহিরুল আলম, ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি এস এম মাকসুদুর রহমান, জাতীয় পার্টি-জেপির উপজেলার সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সদস্যসচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরীসহ জেপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি শনিবার রাতে ভাণ্ডারিয়ার পোনানদী তীরে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের শ্রীশ্রী হরিগুর গোপাল চাঁদ সার্বজনীন মতুয়া মন্দির ও আশ্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় মন্দিরের পরিচালক শংকর মৃধাসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বর্তমানে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সকলকে সরকারি নির্দেশনা মানার আহ্বান জানান।