বসুন্ধরার প্রথম স্বাধীনতা কাপ জয়

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫৯

ফাইনাল শুরুর আগেই চ্যাম্পিয়ন কথাটা জার্সিতে ছাপিয়ে এনে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে লুকিয়ে রেখেছিল বসুন্ধরা কিংস। রেফারি সুজিত ব্যানার্জীর শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে মাঠে উল্লাসে মেতে উঠলেন বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়রা। স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরার সব খেলোয়াড় কোচ-কর্মকর্তাদের গায়ে চ্যাম্পিয়ন লেখা সেই জার্সি। আনন্দে উল্লাসে স্টেডিয়াম মাতিয়ে দিলেন দলের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজেন, ক্লাবের সভাপতি ইমরুল হাসান, ই্রবাহিম, মতিন মিয়া, কোস্ট্রারিকার কলিন্দ্রেস এবং তার স্ত্রী, কিরগিজ ফুটবলার বখতিয়ার, ব্রাজিলীয়ান ফুটবলার মারকোস, ডিফেন্ডার নাসিররা। ফাইনালে বসুন্ধরা ২-১ গোলে শেখ রাসেলকে হারিয়ে নিজেদের শোকেসে প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে তুলে নিলো স্বাধীনতা কাপের ট্রফি।  

শেখ রাসেল কিংবা বসুন্ধরা কিংস তারা মোহামেডান আবাহনীর মতো সমর্থক নির্ভর ফুটবল দল নয়। তারপরও বসুন্ধরার নিজেদের কিছু সমর্থক যতটুকু আওয়াজ তুললেন। আবাহনীর গ্যালারিতে কিছু সমর্থক ছিলেন যারা ফুটবল খেলা হলে নিজেকে ঘরে রাখতে পারেন না। তারা স্বাধীনতা কাপের ফুটবল দেখে খুশিই হয়েছেন। কারণ ম্যাচের যে তিনটি গোল হয়েছে তা ছিল দেখার মতো। যারা ভালো গোল দেখার জন্য রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে গ্যালারিতে অপেক্ষা করেন তারা ফাইনাল শেষে আনন্দিত চিত্তে বাড়ি ফিরেছেন। ম্যাচ শেষেও আলোচনায় ছিল ফাইনালের ভালো মুহূর্তগুলো। চোখে রাখার মতো কিছু উত্তেজনা। আট দশ কোটি টাকা খরচা করে যে দলটি গড়ে তুলেছে বুসন্ধরা, তা দেশের ফুটবলের যেকোনো দলের জন্য হুমকি।

শেখ রাসেল হারলেও ভালো খেলছিল। বসুন্ধরার ওপর দারুণ সব আক্রমণও করছিল। তারপরও ফাইনালের প্রথম গোলটা হজম করে শেখ রাসেল। ১৭ মিনিটে অপ্রত্যাশিত গোলটি হজম করে স্রোতের বিপরীতে। ব্রাজিলীয়ান মারকোস বক্সের অনেক বাইরে হতে বাম পায়ে দর্শনীয় একটা শট করেন। বল সবার মাথার ওপর দিয়ে গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানাকে কিছু বুঝতে না দিয়ে কোনাকুনিভাবে জালে জড়ায় ১-০। রানা খেলার পরে বলেছিলেন ব্রিলিয়ান্ট গোল হয়েছে।

গোলটা ছিল চোখ ধাঁধানো। এধরনের বল ঠেকানোর কোনো উপায়ও ছিল না। তারপরও গোল শোধের মতো সুযোগ দুইবার পেয়েও বসুন্ধরার সেই গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকোর সঙ্গে পেরে ওঠেনি তারা।  প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট শেষ। ইনজুরি টাইমে সমতা আনে শেখ রাসেল। বসুন্ধরার মাসুক মিয়া জনি, কিরগিজ ফুটবলার বখতিয়ারের মাঝখান হতে বল নিয়ে বেরিয়ে শট করেন শেখ রাসেলের রাফায়েল ১-১। এই গোলটিও ছিল চোখে লেগে থাকার মতো। প্রশংসায় ভাসলেন রাফায়েল। দুর্দান্ত গোল করে দারুণ জবাব দিয়েছেন শেখ রাসেলের এই ফরোয়ার্ড। তারপরও রাসেলের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়েছে নিজেদের দুর্ভাগ্যের কারণে।

বসুন্ধরার মতিন মিয়া ৬২ মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন সাদ্দাম হোসেন এনির বদলে। স্প্যানিশ কোচ কৌশল বদল করলেন। এরই মধ্যে ৯০ মিনিটের খেলাটাও ১-১ গোলে শেষ। অতিরিক্তি ৩০ মিনিটের লড়াইয়ে বাজিমাত করেন মতিন মিয়া। কে জানত তার পা থেকেই বসুন্ধরা ট্রফি জয়ের গোলটি পাবে। অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটেই মতিন মিয়ার বাঁক খাওয়ানো বলে দর্শনীয় গোল হয় ২-১। মতিন মিয়া সেমিফাইনালেও বদলি খেলতে নেমে গোল করে দলকে সমতা এনে দিয়েছিলেন। কাল ফাইনালেও বদলি হিসেবে নেমে দলকে জিতিয়ে ট্রফি এনে দিলেন। তাঁর গোলটিও ছিল মনে রাখার মতো। গোলের আরেকটি পেরেক বুকে বিঁধে যেত। গোলকিপার আশরাফুল অসাধারণ দক্ষতায় প্রথমে মারকোসের শট দ্বিতীয়বার কলিন্দ্রেসের শট ঠেকান।

বসুন্ধরা কিংস :

জিকো, নাসির, এনি (মতিন মিয়া), নাইম উদ্দিন (রেজা), ইমন বাবু, জনি, সুফিল, আলমগীর রানা (ইব্রাহিম), বখতিয়ার (কিরগিজস্তান), ডানিয়েল কলিন্দ্রেস (অধিনায়ক)  (কোস্টারিকা), মারকোস (ব্রাজিল)।

শেখ রাসেল :

আশরাফুল রানা, বিশ্বনাথ ঘোষ, আরিফুল ইসলাম (ফজলে রাব্বী), ইয়াসিন খান, উদুকা আলীসন (নাইজেরিয়া), খালেকুজ্জামান (সজিব), রাফায়েল ডি সিলভা (ব্রাজিল), আজীজভ আলীসর (উজবেকিস্তান), বিপলু, ইয়ামিন মুন্না, রাফায়েল ওদোইন।

রেফারি ঃ সুজিত ব্যানার্জী চন্দন।