এই বিপদ সকলের

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২০, ২১:২৫

করোনার কারণে সারা বিশ্ব থমকাইয়া গিয়াছে। রক্তক্ষরণ শুরু হইয়াছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলিতেছে, চীন ব্যতীত অন্য দেশসমূহে এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হইয়া মৃত্যু ও সংক্রমণের হার অধিক। প্রচণ্ড কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে চীন ইতিমধ্যে ইহার সংক্রমণের লাগাম টানিয়া ধরিতে সক্ষম হইয়াছে। গত সোমবার চীনের অভ্যন্তরে মাত্র এক জন করোনায় আক্রান্ত হইয়াছে। এইদিকে বাংলাদেশে গত সোমবার আরো দুই জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হইয়াছে। ইহা লইয়া দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াইল ১০-এ। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সংক্রমণের যেই সকল ঘটনা ঘটিতেছে, তাহা মূলত বিদেশ হইতে আগত মানুষের সূত্রে। ইহাকে বাংলাদেশে ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় পর্যায় ধরা হইতেছে। তৃতীয় পর্যায়ে সংক্রমণটি ছড়াইয়া পড়িতে পারে দেশের অভ্যন্তরে, সমাজের ভিতরে। তাহা অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রতিবেশী বৃহত্ রাষ্ট্র ভারতের অবস্থাও একই। সেইখানে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ জানাইয়াছে, ভারতের হাতে আর এক মাস রহিয়াছে করোনার তৃতীয় পর্যায়ের সংক্রমণ ঠেকাইবার জন্য।

আমাদের অবস্থাও তথৈবচ। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে সংক্রমণের অনেক ঘটনাই এখনো অনির্ণীত। কারণ ব্যাপক হারে রোগনির্ণয় শুরু করা সম্ভবপর হয় নাই। বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই করোনায় সম্ভাব্য আক্রান্তদের উপর নজরদারিও সফল হয় নাই। ইতালি এবং করোনা-আক্রান্ত কিছু দেশ হইতে যাহারা ফিরিয়াছেন, তাহারা বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকিতেছেন কি না—তাহার যথার্থ নজরদারি ও সচেতনতা সর্বত্র দেখা যাইতেছে না। ইহা অত্যন্ত আশঙ্কার। এই কারণে ভবিষ্যতে এই সংক্রমণ ব্যাপকতর আকার ধারণের আশঙ্কা অসংগত নহে। তাহা প্রতিহতের সময়ও অল্প। আর এই আশঙ্কা দূর করিবার প্রধানতম উপায় হইল—রোগনির্ণয়ের পরিকাঠামোটিকে শক্তিশালী করা, যাহাতে যত বেশি সম্ভব মানুষকে পরীক্ষা করা যায় যে তাহারা করোনা-আক্রান্ত কি না। প্রসঙ্গত স্মর্তব্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনিতে পারিয়াছে প্রধানত তাহাদের রোগনির্ণয়ের মজবুত পরিকাঠামোর মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হইতে জানা গিয়াছে, দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিদিন ১০ হাজার সম্ভাব্য করোনা সংক্রমণের পরীক্ষা করিতেছে। অপরদিকে চীনের অস্থায়ী জ্বর-পরীক্ষণ কেন্দ্রগুলি সাহায্য করিতেছে দ্রুত রোগনির্ণয়ে, যাহাতে হাসপাতালের উপর চাপ কম পড়ে। তৃতীয় বিশ্বের জন্য এই দৃষ্টান্ত অনুসরণীয় হইতে পারে। মনে রাখিতে হইবে, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হইয়া মৃত মানুষের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়াইয়াছে। গত সোমবার অবধি ১৪৫টি দেশে ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৫০০ জনের বেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হইয়াছেন।

করোনার কারণে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের অর্থনীতিই ক্ষতবিক্ষত হইতে যাইতেছে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বলেন, দেশের অর্থনীতি মন্দার দিকে যাইতেছে—তখন দেশটির পুঁজিবাজারে সূচক পতনে যেন সুনামি বহিয়া যায়। অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপ—সকল দেশেই রেকর্ড পতন দেখা যায় শেয়ারবাজারে। ধস নামে তেলের বাজারেও, ব্যারেলপ্রতি ২৯ দশমিক ৫০ ডলারে নামিয়া আসে। করোনাজনিত ক্ষতি শেষাবধি কোথায় গিয়া থামিবে, কেহ জানে না। করোনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করাল থাবা হইতে রক্ষা পাইতে সরকারকে সময়োপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করিতেই হইবে। সচেতন হইতে হইবে সকলকে। এই বিপদ সকলের।