পর্যটনশিল্পের অপার সম্ভাবনা জাহাজমারা

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২০, ২১:২৭

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্যের দ্বীপ জাহাজমারা। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়ো বাইশদিয়া ইউনিয়নের মৌডুবিতে দ্বীপটির অবস্থান। সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। উপজেলা সদর থেকে পনেরো কিলোমিটার দূরে মৌডুবি বাজারের কাছে বেড়িবাঁধের বাইরে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জাহাজমারা দ্বীপের অবস্থান। সমুদ্র তীরে দীর্ঘ সৈকতের পাশে রয়েছে বন বিভাগের ঘন বনাঞ্চল। দ্বীপের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া আঁকাবাঁকা খাল। এখানকার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণে নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে পর্যটকেরা এসব স্থানে আসেন কিছুটা প্রশান্তির খোঁজে। জাহাজমারা সমুদ্রসৈকত যেন ছবির মতো সুন্দর! এখানে যেমন রয়েছে নৈসর্গিক রূপ, তেমনি রয়েছে নদী, পুকুর ও বিল। এসবে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক সুস্বাদু মাছের ছড়াছড়ি। নদীর বুকে অথৈ জলের মাঝে ছোটো ছোটো দ্বীপ-বন। এসব বনে বন্যপ্রাণী ও পাখির মেলা। বক, চিল, মাছরাঙা, পানকৌড়ি, বালিহাঁস, ময়না, টিয়া, ঘুঘুসহ আরো কত রকমের পাখি। শীতকালে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে। জেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাখিরাও মাছ শিকার করে। মনোমুগ্ধকর সে দৃশ্য। এই জাহাজমারাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হলে বদলে যাবে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য। পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটলে তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান। জাহাজমারা পর্যটন স্পট হলে এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম হবে এবং দেশের অর্থনীতিও লাভবান হবে। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এম সিফাত

শিক্ষার্থী, কম্পিউটার টেকনোলজি,

বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট