স্পোর্টস রিপোর্টার
বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ স্থগিত হয়ে আছে। তারপরও গতকাল অনুশীলনে নেমেছিল আবাহনী লিমিটেড। ধানমন্ডির এই ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা শেখ কামাল বঙ্গবন্ধুর বড়ো ছেলে। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামের বিসিবি একাডেমিতে অনুশীলনের আগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করেছে আবাহনীর ক্রিকেট দল। মুশফিকুর রহিম, খালেদ মাহমুদ সুজনরা কেক কেটে উদ্যাপন করেন বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন।
ক্রিকেট মাঠ ছাড়াও গতকাল দেশের ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন জায়গায় উদ্যাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাকিব আল হাসান। একইভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। বিসিবি একাডেমিতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণের স্মৃতিচারণ করেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন।
বঙ্গবন্ধুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সাকিব লিখেছেন, ‘আজ থেকে শত বছর আগে এ বাংলায় জন্মেছিলেন এক মহামানব। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশকে স্বাধীন করার। শুধু স্বপ্ন দেখেই থেমে যাননি, সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার সাহসও দেখিয়েছেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার চেতনা আজও বেঁচে আছে আমাদের মাঝে। আমাদের জাতির পিতাকে তাই জানাই জন্মশতবার্ষিকীর প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।’
ডেনমার্কে জন্ম নিলেও ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জামাল ভূঁইয়া লিখেছেন, ‘আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গুণেই স্বাধীন হয় সোনার বাংলাদেশ। আপনি জন্ম না নিলে আমরা হয়তো পেতাম না এই দেশ, আমরা হয়তো পেতাম না লাল-সবুজ পতাকা, আমরা হয়তো পেতাম না নিজস্ব ভাষা, আমরা হয়তো বাস করতাম না স্বাধীন দেশে, আমার বাবা-মা এবং দাদা-নানাদের নিকট শৈশব থেকে শুনে আসছি আপনার সংগ্রামী জীবনের হার না মানা এমন অনেক ঘটনা।’
বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ। রেইসকোর্সের ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া সেই ভাষণের সময়ে ছোটো ছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। গতকাল সেই সময়ের কথা মনে করতে বললে জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেছেন, ‘অনেক ছোটো ছিলাম। তখন তো থম থম একটা অবস্থা ছিল দেশের। আমার তখন চার বছর বয়স। যখন আমি বড়ো হই, তখন রেসকোর্সের যে ভাষণটা সেটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। তার কথায় আমরা বিনা অস্ত্রে যুদ্ধ করি, দেশ স্বাধীন করি, এর থেকে বড়ো পাওয়া কিছু হয় না আসলে। এটা সবচেয়ে বড়ো অর্জন। কাণ্ডারি উনি, রূপকার উনি। উনিই সেই স্বাদ দিয়েছেন। উনিই শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা। তার তুলনা, অবদান আমরা কারো সঙ্গে করতে পারি না। সুতরাং, তার সেই সক্ষমতা ছিল। উনি ছিলেন বলেই হয়তো আমরা স্বাধীন হয়েছি। আমি কোনো রাজনীতি বুঝি না, আমি বুঝি রেসকোর্সের ময়দান থেকে তার ডাকটা। জাতির উদ্দেশে যে ভাষণটা, সেটি খুব অনুপ্রেরণামূলক।’
