স্পোর্টস রিপোর্টার
করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সতর্ক গোটা পৃথিবী। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সব খেলাধুলা স্থগিত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডও স্থগিত করা হয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে হোম সিরিজের প্রিমিয়ার লিগ নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল ক্রিকেটাঙ্গন। মাঠে সতর্কতা অবলম্বন করলেও সরকারের সামগ্রিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে প্রিমিয়ার লিগ স্থগিত করে বিসিবি।
তবে দ্রুতই মাঠে ফিরতে চান ক্রিকেটাররা। জানা গেছে, ক্লাবগুলোও খেলা চালিয়ে যেতে রাজি। করোনার প্রভাবে প্রয়োজনীয় সতর্ক অবস্থান রয়েছে ক্লাবগুলোর। প্রিমিয়ার লিগের সূচি অনুযায়ী ২১-২২ মার্চ খেলা রয়েছে। সম্ভাবনা আছে, সেদিন থেকেই আবার মাঠে গড়াবে লিগ। সবকিণং নির্ভর করছে বিসিবির ওপর। আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন বলেছেন, ক্রিকেটাররা খেলতে চান। তার মতে, মাঠের চেয়ে বাইরেই ক্রিকেটাররা বেশি অনিরাপদ। অনির্দিষ্টকাল লিগ বন্ধ থাকলে ক্রিকেটাররা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবেন, অনেকে বাড়ি চলে যাবেন। সেক্ষেত্রে ঝুঁকি আরো বাড়বে। তার চেয়ে বরং মাঠে থাকাই ভালো।
পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে ৮১ রানে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগ শুরু করেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। গতকালও বিসিবি একাডেমিতে অনুশীলন করেছে ক্লাবটি। সুজন বলেছেন, ক্রিকেটাররা খেলায় ফিরতে রাজি। গতকাল তিনি বলেন, ‘কাল (আজ) আমাদের খেলা ছিল। সেটা হবে না। আমরা খেলতে চাই। ছেলেদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সবাই খেলতে চায়।’
ক্রিকেটাররা লিগে ব্যস্ত থাকলেই বেশি নিরাপদ থাকবেন বলে মনে করেন বিসিবির এই পরিচালক। গতকাল সুজন বলেছেন, ‘জানি যে করোনার একটা বিপদ আছে। এখানে একাডেমিতে আমরা যতটুকু নিরাপদ, বাইরে ছেলেরা যখন যাবে, ওরা তত নিরাপদ না। আর প্রিমিয়ার লিগ যদি বন্ধ হয়ে যায়, আর যদি শুরু না করা যেতে পারে? স্বাভাবিকভাবেই সামনে রোজার মাস। তখন ঠিকমতো শেষ করতে পারে কি না, এই ব্যাপারও থাকবে। তার পরেও এটা যেহেতু সরকারের সিদ্ধান্ত, এটাকে প্রাধান্য দিতেই হবে। যত তাড়াতাড়ি মাঠে যাওয়া যায় ভালো হবে। ছেলেরা খেলতে চায়।’
ক্রিকেটারদের ক্লাবের আবাসনে রাখার পক্ষে সুজন। মাঠই ক্রিকেটার, কোচদের জন্য নিরাপদ জায়গা। আবাহনীর কোচ বলেন, ‘এখানে কিন্তু আমরা অনেক নিরাপদ আছি এখন পর্যন্ত। আমরা তো মাঠের মানুষ, আমরা চাই খেলা হোক। এটা খেলার মৌসুম। পরে তো বৃষ্টি হবে। কষ্ট হবে খেলতে। আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে। আর করোনা ভাইরাসের যে ভয়াবহতা চলছে, সেটা থেকে সবাই মুক্তি পাবে, এটাই আশা করছি। সব স্বাভাবিক হয়ে আসবে, খেলা মাঠে ফিরবে এটাই আশা করি।’
আগামী দুই দিন অনুশীলন না করলেও ফিটনেসের কাজটা করে যাবে আবাহনী শিবির। ক্রিকেটে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে খেলা যায়। এখন দর্শকও হয় হাতেগোনা। তাই লিগ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই আবাহনী। সুজন বলেছেন, ‘মাঠে তো দেখলেন আমরা কয়টা লোক থাকি। কোর্ট-কাচারি তো এখনো বন্ধ হয়নি। ওখানে তো লক্ষ লক্ষ মানুষ থাকে। এখানে যদি ভয়াবহতা না হয়, আর ক্রিকেট তো টাচিং গেম না। আর বর্তমান প্রিমিয়ার লিগে মানুষও হয় না। গুটি কয়েক মানুষ আসে, একশ-দেড়শ মানুষ আসে। ওরা অনেক দূরে, গ্যলারিতে, প্লেয়ারদের কাছে তো আর আসতে পারে না। সেরকমভাবে আমরা যদি ব্যবস্থা করি বা সরকার থেকে অনুমতি পাই, তাহলে শুরু করা উচিত, আমি মনে করি।’
