তারকাবহুল ধারাবাহিক ‘চিটিং মাস্টার’ জয় করেছে দর্শক হূদয়

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২০, ১৮:০৯

ফ য় জু ল  আ ল  আ মী ন

 

পুরান ঢাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারে একজন মোবারক আলী। তিনি বেশ টাকা পয়সার মালিক। তার উত্তরায় ছয়তলা একটা বাড়ি আছে। পুরো পরিবার নিয়ে তিনি পুরান ঢাকা থেকে উত্তরার বাড়িতে এসে উঠে। মোবারকের দুই মেয়ে। সোনিয়া এবং জিনিয়া। সোনিয়ার সঙ্গে মোবারকের আড়তের ম্যানেজার শাহাজাদার সম্পর্ক হয়। সেই সম্পর্ক জানাজানি হলে মোবারক শাহাজাদাকে ম্যানেজার পদ থেকে বরখাস্ত করে। এমনকি শাহাজাদাকে জেলও খাটতে হয়। এই কারণে পরিবারের মধ্যে বিরাট অশান্তি। ছোট মেয়ে কষ্ট করে এসএসসি পাশ করেছে। দুইবার আইএ পরীক্ষা দিয়েছে কিন্তু ফেল করেছে। এটা কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা অন্যখানে।  ঘটনার ভেতরে যে অন্য ঘটনা। মোবারক আলী আরাফাত মাতব্বরের আরতের ম্যানেজার ছিলেন। কোনো এক দুর্ঘটনায় আরাফাত মাতব্বর ও তার স্ত্রী মারা যান। বেঁচে থাকে শুধু একমাত্র পুত্র শাহাজাদা। শাহাজাদা পুরান ঢাকায় মানুষ না হয়ে দেশের অন্য এলাকায় মানুষ হয়। অনেকে ধারণা করে, আরাফাত মাতব্বরের মৃত্যুতে মোবারক আলীর হাত আছে। মোবারক আলীর ডান হাত হিসাবে কাজ করে জুলফিকার। সে এক রহস্যময় মানুষ। সে ভালো না মন্দ সেটা বোঝা মুশকিল। মোবারক আলীর বাড়িতে তিনজন ব্যাচেলর ভাড়া থাকে। রহিম, বাবুল ও বাদশাহ। রহিম ও বাবুল নকল বউ দেখিয়ে বাড়িভাড়া নেয়। রহিমের প্রেম হয় বাড়ির ভাড়াটিয়ার মেয়ে বন্যার সঙ্গে, কিন্তু সেখানেও টানাপোড়েন। এ বাড়িতে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন ভাড়া থাকে। ছয়তলার ভাড়াটিয়ারা সবাই ব্যাচেলর। এই কারণে তাদের অন্য কারো বাসায় যাওয়া পুরোপুরি নিষেধ, এমনকি ছাদে যাওয়াও বারণ আছে। বাদশাহ তার কোনো কিছু প্রয়োজন হলেই বাড়িওয়ালার ঘরে চলে যায়। সেখানে জিনিয়ার সঙ্গে বাদশাহর দেখা হয়। অন্যদিকে এই বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়ারা ছয়তলায় ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

বাদশাহ বেশ বুদ্ধিমান ছেলে। সে তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বাড়িওয়ালা মোবারক আলীকে বারবার বিপদে ফেলে আবার নিজেই সেই বিপদ থেকে উদ্ধার করে। এভাবে একসময় মোবারক বাদশাহর ভক্ত হয়ে যায়। বারবার বাদশাহ মোবারকের বাসায় যায় এবং জিনিয়ার সঙ্গে কথা বলে। বাদশাহ জিনিয়াকে ভালোবাসলেও জিনিয়া তাকে ভালবাসে না। নাটকটিতে একজন ভাড়াটিয়ার বাড়ি ভাড়া নেওয়া থেকে শুরু করে বাড়িওয়ালার মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত নানা ধরনের হাস্যরসাত্মক ঘটনা ঘটতে থাকে। শাহাজাদা ও বাদশাহ সোনিয়া ও জিনিয়াকে বিয়ে করতে বিভিন্ন ধরনের ছলচাতুুরির আশ্রয় নেয়। আর এমনি একটি পারিবারিক ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে ধারাবাহিক নাটক ‘চিটিং মাস্টার’।

সঞ্জিত সরকারের রচনা ও পরিচালনায় এই ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন আনিসুর রহমান মিলন, ফারহানা মিলি, আ খ ম হাসান, নাদিয়া নদী, নিলয় আলমগীর, তানিয়া বৃষ্টি, আরফান আহমেদ, সাজু খাদেম, এ্যানি খান, ডা. এজাজুল ইসলাম, ফারুক আহম্মেদ, মনিরা আক্তার মিঠু, প্রাণ রায়, আব্দুল্লাহ রানা, ওলিউল হক রুমি, শামীমা তুষ্টি, তারেক  স্বপন, তেরেসা চৈতি প্রমুখ।

ইতিমধ্যে ধারাবাহিকটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ধারাবাহিক প্রসঙ্গে নির্মাতা সঞ্জিত সরকার বলেন, ‘এটি মূলত পারিবারিক গল্পের নাটক। পরিবারের ভেতরের নানা গল্প এখানে উঠে এসেছে। এই নাটকের মাধ্যমে দর্শক সুন্দর কিছু মেসেজ পাবেন। সেইসঙ্গে পাবেন সুস্থ বিনোদন।’ ২৩৯ পর্ব পার হওয়া ধারাবাহিক নাটক ‘চিটিং মাস্টার’ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল আর টিভিতে প্রতি বুধ থেকে শনিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে প্রচার হয়ে থাকে।