মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নৌকা ধানের শীষ লাপাত্তা

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১০

পিরোজপুর-১ আসন

পিরোজপুর অফিস ও স্বরূপকাঠি সংবাদদাতা

পিরোজপুর-১ (সদর-নেছারাবাদ-নাজিরপুর) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম নেতা-কর্মী-সমর্থকদের এক বিশাল বহর নিয়ে নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াত নেতা কারাবন্দি সাঈদীর ছেলে শামীম বিন সাঈদী ভোট যুদ্ধের শেষ মুহূর্তেও মাঠে আসেননি। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী শামীম বিন সাঈদীর দৃশ্যমান নির্বাচনী কোনো প্রচার-প্রচারণা লক্ষ্য করা যায়নি, দেখা মিলছে না ধানের শীষের পোস্টার।

অপরদিকে সড়ক, হাট-বাজার, অলি-গলি ছেয়ে গেছে নৌকার পোস্টারে। প্রতীক বরাদ্দের পর আওয়ামী লীগের প্রার্থী শ ম রেজাউল করিম প্রত্যেকটি ইউনিয়নে নির্বাচনী সভা-সমাবেশসহ চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। মিছিল-মিটিং করে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ইতোমধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা একাট্টা হয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। শ ম রেজাউল করিম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক হওয়ায় পিরোজপুর-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের সকল নেতাকে এক মঞ্চে এনে তার নির্বাচনী যুদ্ধকে বিজয়ের পথে ধাবিত করেছেন নিশ্চিন্তে। দলের জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা ভোটের প্রচারণায় তার নিয়মিত সহচর। তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সকল স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা রয়েছেন তার সাথে। পিরোজপুরের পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান মালেক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান খালেক, স্বরূপকাঠির পৌর মেয়র গোলাম কবিরসহ তিন উপজেলার প্রায় সকল ইউপি চেয়ারম্যানগণ রয়েছেন নৌকার সঙ্গে। পিরোজপুর-১ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়াল অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন গণসংযোগ-মিছিল-মিটিংয়ে রেজাউলের সাথে। সব মিলিয়ে এ আসনের নির্বাচনী মাঠ এক কথায় শ ম রেজাউল করিমের দখলে।

অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থী মানবতা বিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাভোগকারী পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম বিন সাঈদীকে কখনই মাঠে বা জনসম্মুখে দেখা যায়নি। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর তিনি ঢাকা থেকে পিরোজপুরে আসেননি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ও তাকে দেখা যায়নি। কদাচিত্ এক-দু’খানা পোস্টার প্রথমে দেখা গেলেও এখন তা উধাও। কোথাও কোনো প্রচার-প্রচারণার সাড়াশব্দ নেই ধানের শীষের। বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীকে তাদের দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে টু শব্দটিও করতে শোনা যায় না। জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা জামায়াতের এই প্রার্থীকে মেনে নিতে পারেননি শুরু থেকেই। উল্টো গ্রেপ্তার-হামলা-মামলা-হয়রানির ভয়ে অনেকেই ঘর ছাড়া, এলাকা ছাড়া। ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এলিজা জামানসহ অনেক কর্মী-সমর্থক গ্রেপ্তার হয়েছেন। নাজিরপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা ওয়াহিদুজ্জামান চুপচাপ ঘরে বসে আছেন। তারপরও আশায় বুক বেঁধে আছেন ধানের শীষের পক্ষে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। সুযোগ পেলেই ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পক্ষে ভোট দেবেন এরকম ভরসায় অনেকটা ঘাপটি মেরে গোপনে গোপনে প্রচার চালাচ্ছেন জামায়াত কর্মীরা। তাদের ধারণা সাঈদীর প্রতি অন্ধ বিশ্বাসে বিশেষত মহিলা ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসতে পারলে ফলাফল ধানের শীষের পক্ষে যাবে।

এ আসনে জাতীয় পার্টির মো. নজরুল ইসলাম (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মাদ মাসুম বিল্লাহ (হাতপাখা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) মেহেদি হাসান রনি (আম) মার্কার পোস্টার দেখা যায়। সিপিপির ডা. তপন বসুর (কাস্তে) পোস্টার নেই। তিনি কয়েকদিন আগে দুর্বৃত্তের হামলায় আক্রান্ত হয়ে নীরব হয়ে গেছেন।