অনুমোদনে এনইসি সভা আজ

সংশোধিত এডিপির আকার ১ লাখ ৯২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার প্রস্তাব

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২০, ২১:৩৪

ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রতি বছরের মতো এবারও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংশোধন হতে যাচ্ছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ঠিক রেখে বৈদেশিক সহায়তার বড়ো অংশ কমানো হচ্ছে। গত ১০ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় আরএডিপির প্রস্তাবনা অনুমোদিত হয়। আজ ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। যার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা, প্রকল্প সাহায্য ৬২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা/করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহে মোট ৮ হাজার ২৭৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থবছরের শুরুতে মূল এডিপির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য ছিল। অর্থাত্ জিওবি ঠিক রেখে বৈদেশিক সহায়তার অংশ কমানো হচ্ছে ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা/করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নসহ চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) সর্বমোট আকার দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ১ হাজার ১৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান বিশ্বে মন্দাভাব বিরাজ করছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম সংগৃহীত হয়েছে। তাছাড়া করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে তা নিশ্চিত নয়। এ সকল বিষয় বিবেচনা করে এডিপিতে জিওবি বরাদ্দ কমার কথা। কিন্তু বর্ধিত সভায় সকল দিক বিবেচনা করে স্থানীয় মুদ্রার পরিমাণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে এনইসি সভায় উপস্থাপনের পর বরাদ্দ হ্রাস-বৃদ্ধি হতে পারে।

প্রস্তাবিত আরএডিপিতে খাতভিত্তিক বরাদ্দ বিভাজনে দেখা যায়, পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা (২৪.৬৫ শতাংশ), ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে ২য় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে মোট ২৬ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা (১৩.৭৫ শতাংশ) এবং বিদ্যুত্ খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৩ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা (১২.৩১ শতাংশ) বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা থাকছে ১৭৪৩টি। এর মধ্যে নতুন অনুমোদিত ১৪৪টি। চলতি অর্থবছর বাদ পড়া ২৪টি প্রকল্প এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত/করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে ১০৩টি প্রকল্প সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে আরএডিপিতে মোট প্রকল্প দাঁড়াচ্ছে ১৮৪৬টি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মূল এডিপিতে ৩৫৫টি প্রকল্প সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত ছিল। আরএডিপিতে সমাপ্তির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১৭টি প্রকল্প। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে ৬২ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্ভুক্ত থাকলেও আরএডিপিতে এই সংখ্যা ২২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।