করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি আকার ধারণ করার পর প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে বিশ্ব পরিস্থিতি। সেই সঙ্গে অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কা আরো ঘণীভূত হচ্ছে। অর্থনীতি ধরে রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রিলিয়ন ডলার প্যাকেজ ঘোষণা, সুদহার শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসা কিংবা ইউরোপের দেশগুলো হাজার কোটি ডলার আর্থিক সহায়তার ঘোষণার পরে মঙ্গলবার শেয়ারবাজার কিছুটা চাঙ্গা হলেও সেটি ধরে রাখা যায়নি। গতকাল বুধবারও নিম্নমুখী হয়েছে বিশ্ব শেয়ারবাজার। ইউরোপ আমেরিকার সঙ্গে সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারও নিম্নমুখী অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।
জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক বুধবার ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। হংকংয়ের হ্যাং সেনাং সূচক ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে পুঁজিবাজারে পতন ঠেকাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ফিলিপাইনে স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন।
করোনার আতঙ্কে প্রায় প্রতিদিনই বিশ্বের বড়ো বড়ো শেয়ারবাজারে সূচক কমে সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করে ফেলছে। আর্থিক সহায়তার ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পারছে না। সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী, তবে নিশ্চিত নন, কারণ, তারা নজিরবিহীন সংকটের ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করছেন।
বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য যে উদ্দীপক ব্যবস্থা নিয়েছে, তা করোনা ভাইরাসের অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ কাটাতে ব্যর্থ হয়েছে; তারই প্রমাণ বুধবার শেয়ারবাজরের অবস্থা। এদিকে পাউন্ডের দর ডলারের বিপরীতে ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। ১ পাউন্ড সমান ১ দশমিক ১৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতি ধরে রাখতে একটার পর একটা প্রণোদনার ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো। অনেকটা ‘ব্লাংক চেক’ দিয়ে রেখেছেন তারা। পরিবর্তিত সময়ে আরো সহায়তার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ব নেতারা। বৈশ্বিক গণমাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ী বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারগুলোর জন্য মহামারি কী ফল বয়ে আনবে, বর্তমানে আলোচনায় থাকা পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট হবে কি না, তা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কেউ বলতে পারে না।
মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, করোনা ভাইরাস একটি বিশ্বব্যাপী মন্দা সৃষ্টি করবে, যা বিগত সময়ের মন্দার চেয়েও খারাপ হতে পারে। সিএনএনের খবর অনুযায়ী, ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার ইউনিয়ন জানিয়েছে, বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ড, জেনারেল মোটরস এবং ফিয়াট ক্রাইসলার তাদের কারখানাগুলোর আংশিক বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। আরো কিছু গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লোকসান গুনছে।
