ছবি ও গল্প

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২০, ১৯:৫১

নিঝুম নিসর্গ। বয়স ছয়। রনজু নামের ওদের এক মামা আছে। একটু পাগলাটে কিসিমের মানুষ। হুট করে ওদের বাসায় আসে। আবার হঠাত্ করে চলে যায়। এজন্য মামার ওপর মনটা খারাপ থাকে কয়দিন। তার সঙ্গে একটু গল্প করবে, কোথাও ঘুরতে যাবে, তা না। এর আগেই মামা চলে যায়। রনজু মামা গত সপ্তাহে যশোর গিয়েছিল। ওই ট্যুরে মামা ওদের খুলনার বাসায় এসেছিল।

আব্বু-আম্মুর সঙ্গে কী যে কঠিন কঠিন বিষয় নিয়ে গল্প করে। নিসর্গ কিচ্ছু বুঝতে পারে না। এমন কঠিন কঠিন কথা কেন যে বলে তারা! এরপরও মামাকে খুব ভালো লাগে। তার ব্যাগে অনেক মজার মজার জিনিস থাকে। সেগুলো দেখতে ওর ভালোই লাগে।

সেদিন রনজু মামা বেনাপোল থেকে ওদের বাসায় আসছে শুনে নিসর্গের মাথায় একটা বুদ্ধি এল। ওর ড্রয়িং খাতায় একটা ছবি এঁকে রাখল। ছবিটা মামাকে উপহার দিয়ে চমকে দেবে। তাই সে কাউকে দেখায়নি।

মামার পথ চেয়ে আছে। কখন আসবে? অস্থির হয়ে আছে সে। আম্মুর কাছে গিয়ে বারবার খোঁজ নিচ্ছে।

মামা বাসায় এল। তাকে ঘিরে একটা আড্ডা জমে উঠল। আব্বু-আম্মুর সঙ্গে গল্পে মেতে আছে মামা। নিসর্গ ওর ড্রয়িং খাতার ভেতর থেকে ছবিটা এনে মামাকে দিল। মামা ওর আঁকা ছবিটা পেয়ে খুব খুশি হলো। ছবির ওপরের বাম কোনায় ছোট করে লেখা আছে। মামাকে লিখে বড়ো করে একটা টান। অর্থাত্ ড্যাশ। এরপর ‘নিসর্গ’ লেখা। ছবির ডানপাশে লেখা ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

ছবিতে যে দৃশ্য আছে। সেগুলো তোমাদের কাছে একটু বর্ণনা করে দিই। মঞ্চের ওপর একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। সামনে একটা কাঠের ডেস্ক। একদম চকচকে ডেস্ক। ধবধবে সাদা পাঞ্জাবির ওপর কালো কোর্ট পরা একজন মানুষ। চোখে মোটা কালো ফ্রেমের চশমা। ডান হাতের আঙুল উঁচিয়ে ধরেছেন। সামনে অনেকগুলো মাউথস্পিকার। তিনি বক্তব্য দিচ্ছেন। সামনে অগণিত মানুষ। আর একদম ছবির নিচে লেখা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’।

এমন সুন্দর একটা ছবি পেয়ে রনজু মামা খুব আনন্দিত। ব্যাগ থেকে অনেকগুলো চকলেট বের করল মামা। সেগুলো নিসর্গের হাতে তুলে দিল। নিসর্গ খুব খুশি।