বার আউলিয়ার পুণ্য এবং ধন্য ভূমি চট্টগ্রামে ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠিত এবং প্রচারিত হয় সুদূর আরব এবং ভারত থেকে আগত পির আউলিয়া বুজুর্গদের আগমনের মাধ্যমে। চট্টগ্রামের আগত পির আউলিয়া বুজুর্গদের মধ্যে হযরত শেখ ফরিদ গঞ্জে শকর (রহ) অন্যতম। চট্টগ্রামে তার আগমন সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা না গেলেও ধারণা করা হয় ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের পরে যে কোনো সময়ে তিনি চট্টগ্রামে এসেছিলেন। ভারতের পাক পত্তন নামক স্থানে ৫৮২ হিজরিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শৈশবে তার বাবাকে হারান। পুণ্যাত্মা মা তাকে লেখাপড়া করানো এবং ধর্মে অনুরক্ত করার ব্যাপারে তত্পর ছিলেন। ছেলে যাতে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে সেজন্য তার মা জায়নামাজের নিচে চিনির পুরিয়া রেখে দিতেন। তার মা তাকে বলতেন, যে নিয়মিত নামাজ পড়ে তার জায়নামাজের নিচে চিনির পুড়িয়া থাকে। বালক শেখ ফরিদ চিনির লোভে এক ওয়াক্ত নামাজ কাযা করতেন না। একদিন তার মা ভুলবশত জায়নামাজের নিচে চিনির পুরিয়া রাখতে ভুলে যান। তার মা তাকে নামাজ আদায় করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি যথাসময়ে নামাজ আদায় করেছেন এবং চিনির পুরিয়া পেয়েছেন। ছেলের হাতে চিনির পুরিয়া দেখে তার মা অবাক হয়ে যান এবং বুঝতে পারেন যে তার ছেলে আল্লাহর কাছ থেকে গায়েবি সাহায্য পেয়েছেন। সেই সময় থেকেই তিনি তার ছেলেকে শকরগঞ্জ বলে ডাকতেন। তিনি দীর্ঘ সাধন শেষে মায়ের আদেশেই তত্কালীন পির হযরত কুতুবউদ্দীন বখতিয়ার কাকী (রহ)-এর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং চিশতিয়া তরিকার মুরিদ হয়ে খেলাফত লাভ করেন। হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিস্তি (রহ) তার দাদা পির ছিলেন। তিনি হযরত ওমর ফারুক (রা) এর বংশধর ছিলেন। দিল্লির সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। তার উপদেশ মতে সুলতান রাজকার্য পরিচালনা করতেন। এমনকি দেশ জয়ের ব্যাপারেও সুলতান তার কাছে সব সময় দোয়া প্রার্থনা করতেন। প্রখ্যাত পীর হযরত নিজাম উদ্দীন আউলিয়া (রহ) তার অন্যতম খলিফা ছিলেন। ৬৬৬ হিজরিতে হযরত শেখ ফরিদ গঞ্জে শকর (রহ) পরিণত বয়সে ইহলোক ত্যাগ করেন। তার অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে দিল্লির হযরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া (রহ) আস্তানায় সমাহিত করা হয়। তিনি তার মায়ের আদেশে দীর্ঘ ৩৬ বছর যে আল্লাহর সাধনা করে ছিলেন সে স্থানটি চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় অবস্থিত। কথিত আছে, তিনি যে স্থানে দাঁড়িয়ে আল্লাহর এবাদত করতেন সেখানেই আল্লাহর ইচ্ছায় ঝরনার সৃষ্টি হয়। যেখান থেকে অলৌকিকভাবে অনবরত পানি নির্গত হচ্ছে। এ ঝরনাটিকে বলা হয় শেখ ফরিদের চশমা। শত শত বছর ধরে এ ঝরনার পানি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার কাছে পবিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
—লেখক : বিমা কর্মকর্তা
