সামাজিক অবক্ষয় রোধে বিয়ের গুরুত্ব

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২০, ২০:৪৩

বিবাহ মহান আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ নেয়ামত এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। ইমানের পূর্ণতার সহায়ক। আর নারীর সঙ্গে পুরুষের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিয়ে হচ্ছে একমাত্র বৈধ, বিধিবদ্ধ, সর্বজনীন ও পবিত্র ব্যবস্থা। অন্যদিকে নারী-পুরুষের পবিত্রতা, সতীত্ব রক্ষার মোক্ষম ও বাস্তবসম্মত হাতিয়ার হলো এই বিয়ের বন্ধন। আর এই বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরের দিনই একজন আরেকজনের জন্য নিজের জীবনকে বাজি রাখতে কুণ্ঠাবোধ করেন না। কেননা, এই সম্পর্ক সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত এবং তাদের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসাটাও সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত। তা না হলে অপরিচিত একজন মানুষের সঙ্গে কীভাবে সারাটা জীবন পাড়ি দেয়! আর কীভাবেই বা একজনের বিপদে আরেকজন নিজের জীবন বাজি রেখে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যায়! আর এ সম্পর্কে আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআলা পবিত্র কোরআনে  ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম হলো তিনি তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জীবনসঙ্গিনী, যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পারো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা রুম আয়াত :২১) আর অন্যদিকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে উত্সাহ প্রদানের লক্ষ্যে আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত এবং তোমাদের দাসদাসীদের মধ্যে যারা সত্, তোমরা তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও। যদি তারা অভাবগ্রস্ত হয়, তাহলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞানী।’ (সুরা নূর, আয়াত ৩২)।

অন্যদিকে আল্লাহর রাসুল (স)ও সামর্থ্যবান লোকদের বিয়ের প্রতি বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন। এ বিষয়ে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা, বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা, রোজা তার ঢালস্বরূপ।’ (সহিহ বুখারি) আর সব ধরনের পাপাচার থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে বিয়ে নামক পবিত্র এই বন্ধনই। কেননা, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘স্ত্রীরা হচ্ছে তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ আর তোমরা তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ।’ অর্থাত্, পোশাক যেমন করে মানবদেহকে সব ধরনের নগ্নতা, অশ্লীলতা ইত্যাদি থেকে বাঁচিয়ে রাখে, ঠিক তেমনি বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী পরস্পর পরস্পরকে সেভাবে বাঁচিয়ে রাখে।

আর সব ধরনের নগ্নতা-অশ্লীলতা থেকে যারা নিজের চরিত্রের হেফাজত করতে চায়, তাদের সাহায্য করা আল্লাহ তাআলা নিজের দায়িত্ব মনে করেন। কেননা, হাদিস শরিফে আছে, আল্লাহর রাসুল (স) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তাআলা নিজের দায়িত্ব মনে করেন। তার মধ্যে একজন হলো সেই যুবক, যে নিজের চরিত্রের হেফাজতের উদ্দেশ্যে বিবাহ করে।’ (তিরমিযি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

বিয়ে যেহেতু সর্বজনীন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সামাজিক একটি বিষয়, তাই আমাদের উচিত হবে সর্বজনীন এই বিষয়কে সহজ করে তোলা। কারণ যে সমাজে বিয়েকে কঠিন করা হয়, সেই সমাজে যেনা-ব্যভিচার সহজ হয়ে যায়। আর সঙ্গে সঙ্গে সমাজে ধর্ষণের মতো সামাজিক ব্যাধির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। কারণ একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের জৈবিক চাহিদা থাকাটা অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

—লেখক :শিক্ষার্থী, দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া