সুপেয় পানির সংকট

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২০, ২০:৪৭

পানির অপর নাম জীবন—নিরাপদ ও সুপেয় পানির অভাবে পড়িলেই আমরা এই আবহমান বচনটির সত্যতা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করি। পানি ব্যতীত জীবন ধারণ অসম্ভব। প্রাচীন কালে তাই পানি প্রাপ্তির নিশ্চয়তায় সভ্যতা গড়িয়া উঠিয়াছিল বড়ো বড়ো নদীকে কেন্দ্র করিয়া। আধুনিক নগরব্যবস্থায়ও পানি উল্লেখযোগ্য নাগরিক সুবিধা ও অধিকার হিসাবে বিবেচিত হইয়া থাকে। আমাদের দেশে নিরাপদ সুপেয় পানির অভাব রহিয়াছে গ্রামে ও নগরে। দেশের বিভিন্ন এলাকার পানিতে রহিয়াছে আর্সেনিক, লৌহসহ নানাবিধ রাসায়নিক উপাদান, যাহা পানিকে অনিরাপদ করিয়া তোলে। অন্যদিকে নগরের পানি যথাযথ পরিশোধনের অভাবে পানের অযোগ্য হইয়া পড়ে। ইহা ছাড়া রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রহিয়াছে পানি সরবরাহের সমস্যা। সামনে আসিতেছে শুষ্ক মৌসুম; এই সময়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করিয়া থাকে, তৈরি হয় পানির জন্য হাহাকার। তেমনই অবস্থা সৃষ্টি হইয়াছে নগরীর শ্যামপুরে, সেইখানে ২০ দিন ধরিয়া পানির সংকট। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব শ্যামপুর, নামা শ্যামপুর, কপিক্ষেত, মাদবরবাজার, সলিমুল্লাহ রোড এলাকায় এই সমস্যা বেশি। সংকট এমন আকার ধারণ করিয়াছে যে, অনেকেই নিজের বাড়ি ত্যাগ করিয়া আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছেন। যাহারা বাড়িতে অবস্থান করিতেছেন তাহারা গোসল ও পানি পান করিতে না পারিয়া আক্রান্ত হইতেছেন নানাবিধ রোগ-বালাইয়ে। জানা গিয়াছে, ডিএনসিসি ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের নামা শ্যামপুর এলাকায় ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-৭-এর আওতায় একটি পানির পাম্প রহিয়াছে। এই পাম্পের পানিতে পূর্বে বালু উঠিত। ফলে এলাকাবাসী ওয়াসা বরাবর অভিযোগ জানাইলে গত ২০ দিন যাবত্ ইহার সংস্কারকাজ চলিতেছে। সংস্কারকাজ প্রয়োজন অনুসারে হইতে হইবে কিন্তু একটি বিকল্প ব্যবস্থা কি চালু করা যাইত না? কর্তৃপক্ষ জানাইতেছে কাজ শেষ হইতে আরো ১০ দিন লাগিবে। ফলে সর্বমোট ৩০ দিন পাম্প বন্ধ থাকিবে—ইহা পূর্বেই চিন্তা করিয়া যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইল না সেই দায় কার? পাশাপাশি পূর্বে পাম্পের পাইপের ব্যাসার্ধ ছিল ৮ ইঞ্চি, বর্তমানে সেখানে ৪ ইঞ্চির পাইপ স্থাপন করা হইতেছে। পূর্বের তুলনায় যেখানে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পাইয়াছে সেইখানে ছোটো ব্যাসার্ধের পাম্প স্থাপন করা হইতেছে কী ভাবিয়া?

সুপেয় পানির প্রাপ্তির সুযোগ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার হিসাবে স্বীকৃতি পাইয়াছে; কিন্তু অধিকার হিসাবে স্বীকৃত হইলেও বিশ্বে এখনো এই অধিকার  হইতে বঞ্চিত ৭৬ কোটিরও বেশি মানুষ। তাই সুপেয় পানির অধিকার রক্ষা করা জরুরি। তাহা না হইলে সংকটাপন্ন এলাকাগুলি আরো অধিক ঝুঁকির মধ্যে পড়িবে। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে সুপেয় পানির সুযোগবঞ্চিত জনসংখ্যার দিক দিয়া বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে সপ্তম। অর্থাত্ এই ক্ষেত্রে আমাদের আরো কাজ করার প্রয়োজন রহিয়াছে। পাশাপাশি পানির অপচয় ও অপব্যবহার রোধ করিবারও সবার দায়িত্ব।