প্রিমিয়ার লিগসহ সব ক্রিকেট স্থগিত

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২০, ২১:২৭

করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। অন্য সব ডিসিপ্লিনের মতো ক্রিকেটে শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড স্থগিত করা হয়েছিল তখনই। তারপর কয়েকদিন অতিবাহিত হয়েছে। করোনা ভাইরাসের থাবা বড়ো হচ্ছে না দেখে ভেতরে ভেতরে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আলোচনায় মত্ত ছিল ক্লাবগুলো। ক্রিকেটাররাও অনেকে খেলতে রাজি ছিলেন। কারণ, সিংহভাগের রুটিরুজি এই লিগ।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনও বলেছিলেন, তারা খেলতে প্রস্তুত। ক্রিকেটাররা খেলায় ফিরতে চান।

কিন্তু পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে গত বুধবার দুপুরের পর থেকে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন বুধবার। তাতেই আতঙ্ক ঘনীভূত হয়েছে সর্বত্র। তাছাড়া ক্রমেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দেশজুড়ে। পরিস্থিতি অনুকূলে আর নেই।

সার্বিক বিবেচনায় প্রত্যাশিত সিদ্ধান্তই নিয়েছে বিসিবি। গতকাল দুপুরে মিরপুর স্টেডিয়ামের বিসিবির কার্যালয়ে কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে মিটিং শেষে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ ক্রিকেটীয় সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। কবে আবার ক্রিকেট মাঠে ফিরবে তার নির্দিষ্ট তারিখ নেই। পরিস্থিতির উন্নয়ন হলে মাঠে ফিরবেন ক্রিকেটাররা। বোর্ড সভাপতি অবশ্য ১৫ এপ্রিলের আগে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর সম্ভাবনা দেখছেন না।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘আমরা সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আজকে (গতকাল) একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমাদের ক্রিকেটের সব খেলা আপাতত স্থগিত অনির্দিষ্টকালের জন্য। অনির্দিষ্টকালের জন্য বলতে যেটা বোঝাচ্ছে যে, পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করব। পরিস্থিতির যদি উন্নতি হয়, যদি মনে করি যে এখন খেলার পরিবেশ আবার এসেছে তাহলে অবশ্যই সেই তারিখটা ঘোষণা করে দেব।’

পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে উল্লেখ করে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, স্থগিত করাই সঠিক সিদ্ধান্ত। নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘এখন আমরা সবাই মিলে আলোচনা করে যেটা সঠিক মনে হয়েছে সেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছি। সবার সঙ্গে কথা বলে যেটা বুঝতে পারছি যে, পরিস্থিতি আসলে বদলাচ্ছে। প্রথম দিকে মনে হয়েছে অনেক খেলোয়াড়রা খেলতে চাচ্ছে। অনেক ক্লাবগুলো খেলতে চাইছিল। কিন্তু যত সময় যাচ্ছে তাতে করে অনেক ভিন্ন মতও আসছে।’

পুনরায় প্রিমিয়ার লিগ শুরুটা নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির উন্নতির ওপর। বিসিবি সভঅপতি বলেন, ‘এই সময়টা (খেলা শুরুর) বলা কঠিন। কারণ প্রতিদিনই পরিস্থিতি পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা যদি জানতে পারতাম যে, ৩১ মার্চের পর সব ঠিক হয়ে যাবে তাহলে বলতাম ৩১ মার্চ। এরপর ঠিক হবে নাকি পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে আমরা তো সেটা বলতে পারছি না। তাই আমরা কোনো নির্দিষ্ট তারিখ দিচ্ছি না। আপাতত আমরা খেলা বন্ধ রাখছি। তবে আমাদের মনে হয় না যে, ১৫ এপ্রিলের আগে ক্রিকেট কিংবা ডিপিএল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বরং এটা আরো বাড়তেও পারে।’

ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে বিসিবি। বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘না পারতে যেন বাইরে না যায় এবং অন্য কারো সংস্পর্শে যতটা কম সম্ভব আসে। আমি বলছি না একেবারে লক ডাউন করে দিতে। করতে পারলে ভালো হতো। ওদের সাবধানে থাকতে হবে।’