আগামী ৪ জুন থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হওয়ার কথা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্বাগতিকদের তিন টেস্টের সিরিজ। কিন্তু প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও বৈশ্বিক মহামারির কারণে এই সিরিজের নির্ধারিত সময়ে মাঠে গড়ানো প্রায় অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সিরিজ পিছিয়ে যেতে পারে অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অথবা এই সিরিজটি ইংল্যান্ডের বদলে ওয়েস্ট ইন্ডিজেই আয়োজিত হতে পারে।
ইএসপিএন ক্রিকইনফো বলছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এবং ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লুিউআই) সম্প্রতি নিয়ে আলোচনা করেছে। আপাতত দুটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রথমটি হলো সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সিরিজ পিছিয়ে দেওয়া। দ্বিতীয় বিকল্প হলো এই সিরিজটি ক্যারিবিয়ান এলাকায়ই আয়োজন করা।
সিডব্লুিউআই ইংল্যান্ডকে প্রস্তাব দিয়েছে এই ক্রান্তিকালে তারা নিজেরাই সিরিজটা আয়োজন করতে চায়। এমনকি জুলাইয়ে ইংর্যান্ডে যে পাকিস্তানের সফর হওয়ার কথা। সেই তিনটি টেস্টও নিরপেক্ষ আয়োজক হিসেবে নিজেদের এখানে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছে সিডব্লুিউআই।
ক্যারিবিয়ান এলাকায় একেবারেই করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি নেই, তা নয়। তবে ইংল্যান্ডে এই ভাইরাস যে প্রবল প্রতাপ দেখাচ্ছে, সে তুলনায় ক্যারিবিয়ান এলাকায় কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি খুবই কম। এখন পর্যন্ত বারবাডোজ ও সেন্ট লুসিয়ায় দুই জন করে এবং অ্যান্টিগায় এক জন করোনা ভাইরাসের রোগী পাওয়া গেছে।
সিডব্লুিউআইয়ের প্রধান নির্বাহী জনি গ্রেভ বলেছেন, ‘আমি টম হ্যারিসনের সঙ্গে গত কয়েক দিনে কয়েক বার কথা বলেছি। তাকে নিশ্চিত করেছি যে, আমরা নমনীয়, সহযোগিতামূলক ও পাশে থাকার মতো আচরণ করব। হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত আমরা প্রস্তাব দিয়েছি যে, আমরা এই সিরিজটা ক্যারিবিয়ান এলাকায় আয়োজন করতে চাই। কারণ এটা কার্যকর মনে হয়েছে। আমাদের এখানে খেলা হলেও সব বাণিজ্যিক ও সম্প্রচার স্বত্ব ইংল্যান্ডেরই থাকবে’ সিডব্লুআই এই অবস্থার সুযোগ নিতে চাইছে, এমনটা মনে করেন না গ্রেভ। তিনি বলছিলেন, ক্রিকেট সমাজের অংশ হিসেবে এটা পরস্পরের পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপার, ‘এটা এমন নয় যে, আমরা পরিস্থিতির সুবিধা নিতে চাইছি। এটা হলো ক্রিকেট সমাজের পরস্পরের পাশে থাকার ব্যাপার। কঠিন এই সময়ে পাশে থাকাটা বড়ো ব্যাপার। আমাদের ক্যারিবিয়ান এলাকার একটা গ্রেট ব্যাপার হলো, এখানে সারা বছর আমরা ক্রিকেট খেলতে পারি। ইংল্যান্ড ও ক্যারিবিয়ান এলাকার মধ্যে চিরকাল খুব শক্তিশালী ক্রিকেটীয় বন্ধন আছে। আমরা সেটাই পরিষ্কার করে জানাতে চাই যে, আমরা পাশে আছি।’
