উন্নয়নকাজ চলমান রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২০, ২২:২৯

দেশের উন্নয়নকাজ করোনা ভাইরাসের দোহাই দিয়ে বন্ধ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের পাশাপাশি উন্নয়নকাজও চলমান থাকবে। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী সত্ভাবে দেশের প্রয়োজনে সবাইকে কাজ করতে বলেছেন। করোনার প্রভাবে উন্নয়নকাজ কতটা বাধাগ্রস্ত হবে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয় তবে করোনার দোহাই দিয়ে উন্নয়নকাজ বন্ধ রাখা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর মূল বার্তা হলো প্রতিরোধ করতে হবে, কাজও করতে হবে। তবে আতঙ্ক ছড়ানো যাবে না। আমাদের সেলফ কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। এখন প্রযুক্তির সময়। তাই প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক কাজই করা যায়। তবে সবাইকে সতর্কভাবেই কাজ করতে হবে। মন্ত্রিসভা, একনেক এরকম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছাড়া অন্য বৈঠক এখন নিরুত্সাহিত করা হয়েছে।

বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। এনইসিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি সিল বানিয়েছি। যারা বিদেশ থেকে আসবেন তাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তাদের হাতে একটি সিল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিভাগীয় শহরে করোনার পরীক্ষার সরঞ্জাম রাখার ব্যবস্থা করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। 

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা হলেও করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়বে। তবে কতটা পড়বে এটা এখনই বলা কঠিন। এরই মধ্যে বিমানের আয় কমে গেছে, রেলে যাত্রী কমেছে। এরকম আরো অনেক খাত আছে যাতে প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। করোনা ভাইরাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আতঙ্ক ছড়িয়ে কাজ নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বরাদ্দের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশে দুর্যোগের সময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবসময় একটি বরাদ্দ থাকে। এখনো আমাদের থোক আকারে বরাদ্দ আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এ অর্থ ব্যয় হবে।

এনইসি সভায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকায় সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থবছরের শুরুতে এডিপির আকার ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। অর্থাত্ আরএডিপিতে বরাদ্দ কমল ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর পুরোটাই বৈদেশিক সহায়তার অংশ। আরএডিপিতে সরকারের নিজস্ব তহবিলের আকার ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

এডিপিতে চলমান প্রকল্প সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪৩টি। এর বাইরে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা/করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে (৮২৭৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা) চলমান প্রকল্প রয়েছে ১০৩টি।