গুগল ডুডলে হাত ধোয়ার পদ্ধতি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২০, ২০:৫৩

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

 

মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হচ্ছে সাবানপানিতে হাত ধোয়া। ঘর থেকে বাইরে যাবার সময়, বা বাইরে কোথাও থেকে আসার পর সাবানপানিতে হাত ধোয়া ভাইরাসের আক্রমণ বা সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে। তবে সেটি হতে হবে সঠিক নিয়মে। প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল তাদের নতুন ডুডলে শুক্রবার হাত ধোয়ার সময় ও নিয়ম দেখাচ্ছে। 

ডুডলে ঘড়ি ধরে আছেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও অ্যান্টিসেপটিক তৈরির জনক ইগনাজ সেমেলওয়েস। অস্ট্রিয়ান এই বিজ্ঞানীই প্রথম হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন বা হাতকে জীবাণুমুক্ত করার জন্য অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার শুরু করেন। তার সেই উদ্ভাবনকে ধরেই ১৮৪৭ সাল থেকে হাত জীবাণুমুক্ত করার স্ট্যান্ডার্ড প্রবর্তন করা হয়। 

ডুডলে দেখা যায়, ইনফেকশন রোধের জনক ইগনাজ একটি ঘড়ি বের করেন। অন্যদিকে চলে হাত ধোয়া। যেখানে এক এক করে মোট ছয়টি পদ্ধতিতে হাত ধোবার অ্যানিমেশন দেখানো হয়। যার ঘড়ির সময়ের হিসেবে মোট এক মিনিট ধরে চলে। 

আপনি জানলে অবাক হবেন যে, ১৯ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত হাতে যে জীবাণু থাকে এবং বারবার যে হাত ধোয়ার প্রয়োজন হয় জীবাণুমুক্ত করতে সেটিই কেউ মানত না। এমনকি মেডিক্যালেও সেটি মানা হতো না। ইগনাজ প্রথম দেখলেন যে, সন্তান জন্ম দেবার পর মা কোনো অজ্ঞাত রোগে মারা যাচ্ছেন। 

ইগনাজ খেয়াল করলেন, যেসব ডাক্তার সেসব প্রসূতিকে দেখছেন তারা খুব ক্রিটিক্যাল রোগীদেরও একটু আগে দেখে এসেছেন। হাতে থাকা অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া নিয়েই আবার সেই মাকে দেখছেন। ফলে তিনিও সংক্রমিত হচ্ছেন। এমন বিষয় খেয়াল করার পর ইগনাজ ১৮৪৭ সালে ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালে স্টাফদের হাত ধোবার ব্যবস্থা করেন। এর পর থেকে মৃত্যু হার কমতে থাকে। 

যদিও এই ব্যবস্থা অন্যান্য ক্ষেত্রে ও অন্যান্য হাসপাতালে চালু করে পরে কয়েক দশক লেগেছিল। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করছে। গুগলও সেই চেষ্টায় সামিল। তারই একটি অংশ এই ডুডল। গুগল বিভিন্ন উত্সব, দিবসসহ নানা আয়োজনে ডুডল তৈরি করে।