স্পোর্টস রিপোর্টার
নতুন যুগের রাহুল দ্রাবিড় বলা হয় তাকে।
আসলে চেতেশ্বর পুজারা দ্রাবিড়ের চেয়েও বেশি স্পেশালিস্ট। ভারতের হয়ে পাঁচটি ওয়ানডে খেলেছিলেন একসময়। কিন্তু সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সেই থেকে আর তার নাম উচ্চারিতই হয় না। অথচ ভারতের টেস্ট দলের অপরিহার্য অংশ তিনি। ৭৭টি টেস্ট খেলে ৫৮৪০ রান করে ফেলেছেন, কিন্তু প্রায়ই সমালোচনা হয় পুজারার ধীরে ব্যাটিং করা নিয়ে।
ভারতের এই বিশেষজ্ঞ ৩ নম্বর ব্যাটসম্যান বলছিলেন, তিনি জানেন, তার পক্ষে বীরেন্দর শেবাগ বা ডেভিড ওয়ার্নার হওয়া সম্ভব নয়। তাই তিনি নিজের ব্যাটিংটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চান। পুজারা বলছিলেন, তার প্রতি দলের সমর্থন আছে। তাই নিজের কাজটাই করে যেতে চান তিনি।
ভারতের এই টেস্ট বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান বলছিলেন, তার দলের মধ্যে অন্তত তার স্ট্রাইক রেট নিয়ে কোনো সমালোচনা নেই। টিম ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে তিনি পুরো সমর্থন পান বলেই বলছিলেন, ‘আমার মনে হয় না (স্ট্রাইক রেট নিয়ে) খুব বেশি কথা হয় (দলের মধ্যে)। সংবাদমাধ্যমে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে পুরোপুরি সমর্থন করে। অধিনায়ক, কোচ অথবা অন্য কারো থেকে কোনো চাপ নেই।’
পুজারা বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই বললেন, তার খেলার ধরন ও গুরুত্ব ভারতীয় দল খুব ভালো বোঝে। তাই এ নিয়ে কেউ তাকে কোনো কথা বলে না, ‘একটি বিষয় আমি পরিষ্কার করে দিতে চাই। স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সবাই ভাবে টিম ম্যানেজমেন্ট এটা কীভাবে দেখছে। কিন্তু আমার ওপর কোনো চাপ নেই। টিম ম্যানেজমেন্ট আমার খেলার ধরন ও এর গুরুত্ব বোঝে।’
৭৭ টেস্টে পুজারা প্রায় ৬ হাজার রান করেছেন ৪৮.৬৬ গড়ে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে গড় ৫০-এর ওপরে। তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয় তাকে নিয়ে, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছিল (রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে), ‘কেন এই রান করতে আমি এত বেশি সময় নিয়েছি?’ আমি কি কখনো সেদিকে মনোযোগ দিয়েছি? না। আমার কাজ সব সময় দলের জয় নিশ্চিত করা।’
পুজারা বলছিলেন, টেস্টে মারকাটারি ব্যাটিং করাটা সব ব্যাটসম্যানের কাজ নয়। ওটা ওয়ার্নার, শেবাগের মতো দু-একজন পারেন। তিনি তাই সাধারণের মতো সময় নিতে চান, ‘জানি আমি ডেভিড ওয়ার্নার অথবা বীরেন্দর শেবাগ হতে পারব না। একজন সাধারণ ব্যাটসম্যান যদি সময় নেয় (ব্যাটিংয়ে), তাতে কোনো ভুল নেই।’
