বিসিবির বিশেষ প্রোগ্রাম
স্পোর্টস রিপোর্টার
বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগসহ সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। ঢাকার বাইরের ক্রিকেটাররা বেশির ভাগই বাড়ি ফিরে গেছেন। খেলা নেই, অনেকেরই এখন অলস সময় কাটবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার শুরু হবে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম। তার আগ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সব ক্রিকেটারকে।
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আগামী মে মাসে শুরু হতে চলা বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের প্রোগ্রামও অনিশ্চয়তার চাদরে ঢাকা পড়েছে। আপাতত চলতি বছরের এইচপি স্কোয়াড গঠন নিয়ে ভাবছেন না নির্বাচকেরা। তবে করোনার কারণে চলমান বিরতিতে উদীয়মান ক্রিকেটারদের প্রতি নজর সরাচ্ছেন না নির্বাচকেরা। এইচপির সম্ভাব্য স্কোয়াড হিসেবেই ৩০ জনের একটা দল গঠন করা হচ্ছে।
আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই দল তৈরি করবেন নির্বাচকেরা। তাদের ধরিয়ে দেওয়া হবে বিসিবির বিশেষ ফিটনেস প্রোগ্রামের বিস্তারিত। আর ফিটনেসের এই প্রোগ্রাম তৈরি করছেন বিসিবির নতুন ট্রেনার তথা জাতীয় দলের স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ নিক লি। ইংলিশ এই ট্রেনার এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন।
বাড়িতে বসে বিসিবির নির্দেশনা অনুযায়ী ফিটনেসের কাজ করতে হবে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের, যাতে বিরতির এই সময়েও তারা ফিটনেস ধরে রাখতে পারেন। গতকাল জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এমনটাই জানিয়েছেন।
উদীয়মান ক্রিকেটারদের ফিটনেস কার্যক্রম যেন বাসায়ও চলে তার ব্যবস্থাই করছেন নির্বাচকেরা। ইতিমধ্যে ঢাকা ছেড়ে নিজের শহর চট্টগ্রামে চলে যাওয়া প্রধান নির্বাচক গতকাল বলেছেন, ‘এইচপি তো পরে। এমনিতে বাসায় থেকে ফিটনেস ট্রেনিংটা যাতে করে, এজন্য একটা টিম তৈরি করব আমরা, চিন্তাভাবনা আছে ফিটনেসের জন্য। ওরা নিজেরা যাতে করে। দ্রুতই টিমটা আমরা দিব।’
ক্রিকেটারদের জন্য এই ফিটনেস ট্রেনিংয়ের সূচি তৈরি করছেন ট্রেনার নিক লি। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, ‘এই দলটা ঠিক এইচপি নয়। এটা নতুন যে ট্রেনার আসছে, ও দেবে গ্রোগ্রামগুলো।’
এই দলে থাকবেন বছরের শুরুতে যুব বিশ্বকাপ বিজয়ী দলের ক্রিকেটাররা। গত বছর এইচপিতে থাকা ক্রিকেটাররাও এর আওতায় থাকবেন। আকবর আলী, মাহমুদুল হাসান জয়রা বিসিবির নজরেই থাকবেন এই বিরতির মাঝে। গতকাল প্রধান নির্বাচক বলছিলেন, ‘আগে যারা ছিল এইচপিতে ওরা থাকবে, কিছু বাদ পড়বে, নতুন ঢুকবে। ৩০ জনের মতো তালিকা করব। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ছেলেরা অবশ্যই থাকবে। দেখেন, আমাদের শরীফুল, হাসান মুরাদ—ওরা কিন্তু আগে এইচপিতেই ছিল। আকবর আলী, হাসান মাহমুদরা থাকবে।’
মূলত এইচপির প্রোগ্রাম মে মাসে শুরুর পরিকল্পনাই ছিল। স্কোয়াডটা দেওয়া হতো এপ্রিলে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ স্থগিত হয়ে গেছে করোনার কারণে। এইচপি ক্যাম্পও করোনায় প্রভাবিত হতে যাচ্ছে। এখন এইচপি নিয়ে চিন্তা করছেন না নির্বাচকেরা।
গতকাল মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘এখন তো কোনো কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথাই নাই। পরিস্থিতির যদি উন্নতি না হয়, সরকারের নির্দেশনা না এলে এসব হবে না। কোচিং স্টাফের বিষয় আছে, খেলোয়াড়দের বিষয় আছে। এখন হবে না।’
