ভোটে থাকার সিদ্ধান্ত ঐক্যফ্রন্ট-২০ দলের

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৪

ভোটের বাকি আর মাত্র তিন দিন। এখন পর্যন্ত ভোটের মাঠে প্রচার-প্রচারণায় আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের ধারে-কাছেও নেই বিরোধীরা। ধানের শীষের প্রার্থী এবং সমর্থকদের ওপর হামলা-গ্রেফতারের অভিযোগ করা হচ্ছে দলটির পক্ষ থেকে। সেনাবাহিনী নামার পর পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে এ আশা বিএনপির। গতকাল পর্যন্ত ১৮ জন প্রার্থী আইনগত জটিলতায় পড়ে নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে গেছেন। নির্বাচনে আছেন ২৮২ জন ধানের শীষের প্রার্থী। গতকাল বাতিল হয়েছে তিন জনের প্রার্থিতা। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট বর্জনের ঘোষণা দিতে পারে-এমন গুজব-গুঞ্জরন চলছে দুই দিন ধরে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার রাতে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের জরুরি বৈঠক করেছে। গতকাল বুধবার সকালে বৈঠক করেছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের শীর্ষ নেতারা। দুই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়েছে: যতই বৈরী পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, কোনোভাবেই মাঠ ছাড়বে না বিরোধীরা। শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত ভোটে থাকবেন তারা।

২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ২৫ দিনে ধানের শীষ প্রতীকের ৩২ জন প্রার্থী ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও পুলিশের হামলার শিকার হয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ইত্তেফাককে বলেন, পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সারা দেশে ঐক্যফ্রন্ট ও  ২০ দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে একের পর এক হামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। আমরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। বৈঠকে নেতারা মতামত দিয়েছেন, সরকারি দল, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতই বৈরী পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হোক, কোনোভাবেই মাঠ ছাড়া যাবে না। সরকার একতরফা নির্বাচনে আর কী কী করতে পারে, তা চূড়ান্তভাবে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহলের সামনে উন্মোচন করার জন্য শেষ পর্যন্ত মাটি কামড়ে মাঠে থাকতে হবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-প্রধান ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব। যেকোনো পরিস্থিতিতেই নির্বাচন বর্জন করবো না। নির্বাচনে যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমাদের আশঙ্কা আছে। তবে আমাদের শেষ পর্যন্ত নির্বাচন ধরে রাখতে হবে, যাতে তারা বলতে না পারে যে আমরা নির্বাচন থেকে সরে গেছি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বর্জন করবে কি না এই প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা এবার ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেব না। তবে নির্বাচনে থাকবো কি না, তা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার ওপর নির্ভর করবে। ইসি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সার্বিক নির্বাচনের পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে দল ও জোটের ফোরামে আলোচনা করে পরে কী হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবো।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, আমাদের যতই হামলা গ্রেফতার, ভয়-ভীতি দেখানো হোক ভোট থেকে সরছি না। ধানের শীষের যে জোয়ার উঠেছে তাকে থামানো যাবে না।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণ যাতে ভোট দিতে না পারে সেই চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু জনগণ সব অপচেষ্টা ব্যর্থ করে ৩০ ডিসেম্বর ব্যালট বিপ­বের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।

ঐক্যফ্রন্ট নেতা জাফরুল­াহ চৌধুরী বলেন, স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা নির্বাচনে আছি, শেষ পর্যন্ত থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। বৈঠকে একজনও নির্বাচনে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলে নাই, আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকব। এদিকে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, নির্বাচন বর্জন নয়, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে থাকবে।