নভেল করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে নিজেরাই হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে তা বিনামূল্যে ঝুঁকিতে থাকা পেশাজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষদের দিচ্ছে ছাত্র ইউনিয়ন। ছাত্র সংগঠনটির এই উদ্যোগ নানা মহলে প্রশংসিত হওয়ার পর যুব ইউনিয়ন নেতাকর্মীরাও শুক্রবার এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন।
বরাবরই ঝড়, বন্যাসহ বিভিন্ন জাতীয় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় শনিবার বলেন, চার দিন ধরে তারা এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এরই মধ্যে ৫০ মিলিলিটারের ৯ হাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে তা বিলি করেছেন।
ঢাকায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে রোগীদের যে চারটি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। ঐ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিত্সকরা তাদের কাছ থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়েছেন বলে জানান অনিক।
করোনা ভাইরাসসংক্রান্ত খবর সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা টেলিভিশন সাংবাদিকদের একটি অংশও তাদের কাছ থেকে এই জীবাণুনাশক নিয়েছেন। এর বাইরে তেজগাঁওয়ের বউবাজার বস্তি, পল্টনের হকার ও কামরাঙ্গীরচরের হাজার দেড়েক রিকশাচালক ও গ্যারেজ কর্মীকে বিনামূল্যে এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফরিদপুর, মৌলভীবাজার ও শরীয়তপুরে নিম্নআয়ের মানুষদের মধ্যে তা বিতরণ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির শহিদ মুনীর চৌধুরী কনফারেন্স হল ও তার সামনের জায়গায় এসব হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি, রসায়ন ও প্রাণ রসায়নের শিক্ষার্থীদের ২৫ জনের একটি দল প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮-৯টা অবধি এগুলো তৈরি করছেন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরিতে আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল ৭০%, গ্লিসারিন, লেমন ওয়েল ও ডিস্টিলড ওয়াটার ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান অনিক রায়।
