প্রচারণা ছাড়াও প্রার্থীরা ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ, কেন্দ্রে ভোটার বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও ভোটারদের ঘরে ঘরে ভোটার নম্বর সম্বলিত স্লিপ তৈরি করে পোঁছানো ইত্যাদি কর্মকাণ্ড নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রার্থীরা কেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগের বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রের আশপাশের স্থানীয় দলীয় সক্রিয় নেতা-কর্মীরা প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে এজেন্ট নিয়োগে বিএনপি খুব সতর্কতা অবলম্বন করছে। এক্ষেত্রে তারা কয়েক স্তরের তালিকা তৈরি করেছে। যাতে এজেন্ট নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১৬ আসনের সকল প্রার্থীর এজেন্টদের নামের তালিকা চাওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে ১১৪ জন প্রার্থী রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক প্রার্থী নামের তালিকা কমিশনে জমা দিয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত করে এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন এজেন্টদের জন্য নির্ধারিত কার্ড ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে পাঠাবে। এজেন্টদের কার্ড প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ভোট কেন্দ্র ভিত্তিক এজেন্ট তালিকা তৈরি করে ফেলেছে। এক্ষেত্রে দলের সক্রিয় নেতা-কর্মী ও ভোটারদের চেনেন এধরনের স্থানীয় দলীয় লোকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কারণ এজেন্টরা ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মহিলা ও পুরুষ বুথের জন্য আলাদা করে এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ ভোট কেন্দ্র ভিত্তিক প্রচারণা কেন্দ্র করেছে। এসব কেন্দ্রে দলীয় নেতা-কর্মীরা পাড়া ও মহল্লা ভিত্তিক ভোটার নম্বর, নাম ও কেন্দ্র উল্লেখ করে স্লিপ তৈরি করছে। প্রার্থীর পক্ষ থেকে কেন্দ্র ভিত্তিক ভোটার তালিকা পৌঁছানো হয়েছে। এতে পক্ষের ও বিপক্ষের ভোটারও চিহ্নিত করা হচ্ছে। নিশ্চিত ভোটারদের চিহ্নিত করে তাদের ভোট কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে প্রচারণার মাঠে তত্পরতা কম থাকলেও বসে নেই বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। প্রচারণার চেয়ে তারা ভোটের দিন ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বেশি জোর দিচ্ছে। জানা যায়, বিএনপির সক্রিয় অধিকাংশ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। পুলিশের ভয়ে রাস্তায় বের হতে না পারলেও ভোটের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। মামলার কারণে এজেন্ট নিয়োগে বিএনপি বিপাকে পড়েছে। মামলার কারণে শিক্ষিত সক্রিয় দলীয় নেতাকর্মীর সংকট দেখা দিয়েছে। বিএনপিসূত্র জানায়, এজেন্ট নির্ধারণে তাদের বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে। কয়েক স্তর করে এজেন্ট তালিকা তৈরি করেছে বিএনপি। এক্ষেত্রে মামলার কারণে পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাতে কোনো বুথে এজেন্ট বাদ না পড়ে। তবে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে প্রকাশ্যে বিএনপির তেমন কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে না।
