করোনার মধ্যেই আমেরিকা-চীন মিডিয়াযুদ্ধ

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২০, ২১:৪৯

করোনা মহামারির মধ্যেই আমেরিকা ও চীনের মধ্যকার মিডিয়াযুদ্ধ আরেক দফা সম্প্রসারিত হইয়াছে চলতি সপ্তাহে। বেইজিংয়ের মঙ্গলবারের ঘোষণা মোতাবেক আগামী বত্সর হইতে নিউ ইর্য়ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিকরা আর চীনে কর্মরত থাকিতে পারিবেন না। এমনকি এই সকল সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা চীনের অধীনে থাকা হংকং কিংবা ম্যাকাওতে অবস্থান করিয়াও দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন না। চীন কর্তৃক নিষিদ্ধ সাংবাদিকদের অনেকে সাধারণত এতদিন পর্যন্ত হংকং বা ম্যাকাওভিত্তিক হইয়া দায়িত্ব পালন করিতেন। এইবার সেই সুযোগের অবসান ঘটানো হইয়াছে। চীনের সিদ্ধান্তের এইখানেই শেষ নহে। নূতন সিদ্ধান্ত মোতাবেক, উপরোক্ত তিনটি সংবাদমাধ্যমসহ ভয়েস অব আমেরিকা ও টাইম ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষকে চীনে কর্মরত তাহাদের সকল সাংবাদিক, কর্মী, কার্যক্রম এবং স্থাপনা-সম্পদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের বিষয়ে নানা রকমের চাপ প্রয়োগের নীতির মধ্যে থাকিলেও, চীনকে ইতিপূর্বে কখনো এইক্ষেত্রে এত ব্যাপক সিদ্ধান্ত লইতে দেখা যায় নাই। অধিকাংশ পশ্চিমা পর্যবেক্ষক এই সিদ্ধান্তের মধ্যে চীনের অধিকতর কট্টর হইয়া উঠিবার প্রমাণ দেখিতেছেন। তবে পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত হইতেছে চীনের পক্ষ হইতে ‘ইটের বদলে পাটকেল’ নীতির প্রয়োগ।

উল্লেখ্য, গত মাসে আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক আমেরিকাতে সংবাদ সংগ্রহে নিযুক্ত চীনের পাঁচটি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে ‘বিদেশি মিশন’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। এইভাবে চিহ্নিত করিয়া সংবাদমাধ্যমগুলিকে চীন সরকারের বর্ধিতাংশ হিসাবে বিবেচনা করা শুরু করে আমেরিকা। ইহার ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের শুরুর দিকে আমেরিকায় কর্মরত চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকসহ মোট কর্মীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০০ জনে বাঁধিয়া দেওয়া হয়। ইহার ফলে উল্লেখিত পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত বাড়তি ৬০ ব্যক্তির আমেরিকা ছাড়িবার বাস্তবতা তৈরি হয়।

চীন আসলে ঝোপ বুঝিয়া কোপ মারিয়াছে। গত মাসে করোনা লইয়া চাপের মধ্যে থাকা অবস্থায় আমেরিকার সিদ্ধান্ত লইয়া চীন তেমন উচ্চবাচ্য করে নাই। এখন পরিস্থিতি পালটাইয়া গিয়াছে। চীন করোনা হইতে সারিয়া উঠিয়াছে। পক্ষান্তরে আমেরিকায় করোনার প্রকোপ বাড়িতেছে। করোনা মোকাবিলায় জনব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গৃহীত জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থার সাফল্য চীনা কর্তৃপক্ষের আত্মবিশ্বাস অনেক উপরে তুলিয়া দিয়াছে। অনেক দেশ এখন করোনা মোকাবিলায় চীনের পথ অনুসরণের কথা ভাবিতেছে। এইদিকে, চীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বরত একাধিক ব্যক্তি চীনে করোনা ভাইরাস ঢুকাইবার জন্য আমেরিকার সামরিক বাহিনীকে দায়ী করিতে শুরু করিয়াছেন। তাহাদের মতে, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর কোনোভাবেই করোনার উত্পত্তিস্থল নহে। এই সমস্ত বক্তব্যের সত্য-মিথ্যা যাচাই করা মুশকিল। তবে আমেরিকাকে যে কোনো ক্ষেত্রেই মুখের উপর জবাবদানের নীতিতে চীন যে ক্রমশ অভ্যস্ত হইয়া উঠিতেছে, তাহাতে কোনো সন্দেহ নাই।