চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে বাকি সময়ে আদায়কৃত প্রবৃদ্ধি হতে হবে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ, যেটি সম্ভব নয়। করোনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাব ছাড়া স্বাভাবিক অবস্থা থাকলে এ বছর রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১ লাখ কোটি টাকা কম হতে পারে বলে অনুমান করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়লে এই ঘাটতি আরো বেড়ে যেতে পারে। সরকারের ব্যয়ের চাপ আরো বেড়ে যাবে। এতে বাজেট ঘাটতি সাড়ে ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। গতকাল শনিবার ‘করোনা ভাইরাসের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং করণীয়’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয় সিপিডির পক্ষ থেকে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সিপিডি কার্যালয়ে এই মিডিয়া ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন মূল প্রতিবেদনে বলেন, এই মহামারির কারণে তৈরি পোশাক খাত, চামড়াশিল্প, পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। এসব খাতের উদ্ভূত ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা প্যাকেজ বিবেচনা করা উচিত। দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ এই বৈশ্বিক মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারকে তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশও এখন ব্যাপকভাবে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির সম্মুখীন। স্বাস্থ্য খাত, বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, সরকারি ব্যয়, মুদ্রানীতিসহ যেসব খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, সেটি মোকাবিলায় সরকারকে নির্দিষ্ট সম্প্রসারণধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরবরাহের সমস্যা দেখা দিয়েছে। সাপ্লাই চেইনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দামে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব দেখেছি। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে। যেসব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এরকম জাতীয় সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব সেবার ক্ষেত্রে অর্থ সংকুলান ও যন্ত্রপাতির ব্যাপক অপর্যাপ্ততা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই চিকিত্সার জন্য বর্তমানে প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও চিকিত্সকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। চলমান বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বরাদ্দ অপর্যাপ্ততার কথা উল্লেখ করে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, স্বাস্থ্য খাতের জন্য চলতি বছরের বাজেট বরাদ্দ জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। এটা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘকালীন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য খাতের জন্য জিডিপির ১ দশমিক ১২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার কথা বলছে।
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, করোনার প্রভাবে অর্থনীতির কতটা ক্ষতি হবে সেটি এখনই হিসাব করা কঠিন। বর্তমান অবস্থায় পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন লক্ষ করা যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুঁজিবাজার বন্ধ করা যায় কি না, সে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
