করোনার প্রভাব

বাণিজ্যে স্থবিরতা :সুদ স্থগিতসহ নীতি সহায়তা দাবি ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২০, ২২:২৮

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এরই মধ্যে বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। রপ্তানি আদেশ বাতিলসহ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব দেখা দেওয়ায় এখুনি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছেন ব্যবসায়ী-অর্থনীতিবিদগণ। তাদের মতে, বাংলাদেশ ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, অর্থনৈতিক ঝুঁকিও কাটাতে হবে। তা না পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

তাদের মতে, অর্থনৈতিক ঝুঁকি কাটাতে আর্থিক প্রণোদনা, ঋণের সুদ গণনা স্থগিত, নীতিসহায়তাসহ নানা কৌশল নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলেও এখনো কোনো ঘোষণা আসছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৯ মার্চ এক নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোকে বলেছে, করোনার কারণে কাউকে খেলাপি না করতে। অর্থাত্ আগামী জুন পর্যন্ত কেউ ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলে তাকে শ্রেণিকৃত বা খেলাপি করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, চলমান বিরূপ প্রভাবের ফলে অনেক ঋণগ্রহীতাই সময়মতো ঋণের অর্থ পরিশোধে সক্ষম হবেন না মর্মে ধারণা করা যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে, চলমান ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং দেশে সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আশঙ্কা করলেও তা এখন বাস্তবতা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু খেলাপি না করতেই বলেছে। কিন্তু এই সময়ে যারা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করবেন না, তাদের বাড়তি সুদও গুণতে হবে। তাহলে উদ্ভূত পরিস্থিতি কি উদ্যোক্তাদের অনুকূলে গেল? —এমন প্রশ্নও রেখেছেন অনেকে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু ফারাহ মো. নাসের ইত্তেফাককে বলেন, এই সুযোগটি ঋণগ্রহীতাদের গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।       গ্রেস পিরিয়ডে সুদ মাফ হয় না।

ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের মতে, জুন পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড দিয়ে কার্যত কোনো লাভ হবে না বরং আপত্কালীন সময়ে সুদ স্থগিত করা দরকার। ঋণের সুদের হার অবিলম্বে ৬ শতাংশে নির্ধারণ করা দরকার। কারণ, করোনার বিস্তার যদি আরো ভয়ানক হয়, ৯ শতাংশ সুদ কার্যকর করলেও ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, আমরা এখন মারাত্মক পরিস্থিতির মুখোমুখি। ব্র্যান্ডগুলো ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিচ্ছে এবং অব্যবহূত কাপড় ধরে রাখতে বলছে। বৈশ্বিক চাহিদা স্থবির বলে যারা উত্পাদনে আছে, তাদের জাহাজীকরণ থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। যার প্রভাবে আসন্ন তারল্য সংকটে পরিণতি হবে গুরুতর।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ইত্তেফাককে বলেন, যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তাতে বাংলাদেশের উচিত দ্রুতই কর্মকৌশল প্রণয়ন করা। সুদের হার কমিয়ে আনা। ব্যবসায়ীরাও বলেছেন, সুদের হার কমিয়ে না আনলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।