প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে বাইরে ঘোরাঘুরি না করে যতটা সম্ভব ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, নিজেকে, পরিবার ও সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখুন। অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য কিনে মজুদ রাখা থেকে বিরত থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা-১০ আসনে জাতীয় সংসদ উপ-নির্বাচনে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একবারই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের সুযোগ পেয়েছি এবং আমরা এমন একটি সুযোগ আর পাব না। তবুও আমরা জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণের জন্য জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচি স্থগিত করেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘করোনা ভাইরাস যাতে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য জনসমাবেশ ঘটে এমন কর্মসূচিও আমরা বাতিল করব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুদ রয়েছে। অযথা আতঙ্কিত হয়ে বেশি করে পণ্য কিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো গর্হিত কাজ। সবাইকে এই ধরনের অপতত্পরতা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ ভোক্তারা অতিরিক্ত নিত্যপণ্য কিনলে বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত করতে না পারে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জনগণকে নজরদারি বাড়াতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পর্যবেক্ষণ করছি যে, আতঙ্কিত হয়ে কিছু লোক অতিরিক্ত মাত্রায় খাদ্যদ্রব্য কিনে সংরক্ষণ করছে। তবে, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, আমাদের কোনো খাদ্য সমস্যা নেই। আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। তাই, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য কেনার দরকার নেই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যে রিজার্ভ রয়েছে তা দিয়ে আগামী এক বছরের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য কেনার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। সরকারি গুদামগুলোতে সাড়ে ৩ লাখ টন গম ছাড়াও ১৭ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এর পাশাপাশি, বেসরকারি রাইস মিলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশস্য রয়েছে। তাই আমি সবাইকে যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু খাদ্যদ্রব্য কিনতে অনুরোধ জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি আরো বলেন, ‘চীনে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পরার পরপরই আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা তখন চীন থেকে ৩১৫ জন শিক্ষার্থীকে দেশে ফিরিয়ে আনি এবং কোয়ারেন্টাইনে ১৪ দিন রাখার পর তাদের ছেড়ে দেই।’ শেখ হাসিনা বলেন, বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে বিদেশ থেকে আগতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যদি কাউকে এই ভাইরাসে সংক্রমণ বলে সন্দেহ করা হয়, তবে তাকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে।’ এ ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, যারা বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন তাদের পরিবারের সদস্য ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই অন্তত ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইইডিসিআর সতর্ক আছে এবং দেশে প্রাণঘাতী ভাইরাসটিকে নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এসব পদক্ষেপ নিচ্ছি যাতে মানুষ সতর্ক থাকে এবং এ ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অপেক্ষাকৃত ভাল।’
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার জনগণকে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে এক স্থানে কয়েকজনের সমাগমকে নিষিদ্ধ করেছে। মহান আল্লাহ যাতে মানবজাতি, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও এ দেশের লোকদের এই ঘাতক ব্যাধি থেকে রক্ষা করে তার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ও এই আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট সচিবগণ তার সঙ্গে ছিলেন।
