করোনা ভাইরাসের প্রকোপে নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দুর্বিষহ জীবন

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ০০:৪৪

করেনা ভাইরাসের কারণে নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। কীভাবে সন্তানের ভরণপোষণ করবেন সে চিন্তা ভাবিয়ে তুলেছে বহু অভিভাবককে। এদিকে রবিবার রাত ৮টা থেকে কার্যকর হচ্ছে নিউ ইয়র্ক রাজ্য লকডাউনের ঘোষণা। অন্যদিকে সব নাগরিককে দুই সপ্তাহের জন্য বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে অবরুদ্ধ হয়ে দিন কাটাতে হবে সবাইকে। এ অবস্থায় স্বল্প আয়ের প্রবাসীরা আরো করুণ পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন।

নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকার সাটফিন বুলেভার্ডের বাসিন্দা মাসুদ আহমেদ জানান, গত ১৩ বছর ধরে তিনি নিউ ইয়র্কে বসবাস করছেন। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে বাসার পাশে স্কুলে পড়ে। স্ত্রী সপ্তাহে চার দিন ডানকিন ডোনাটসে কাজ করেন। আর তিনি কাজ করেন ম্যানহাটনের একটি রেস্টুরেন্টে। দুই বাচ্চা স্কুলে থাকার সুবাদে তারা নির্বিঘ্নে কাজ করতেন। এখন করোনা ভাইরাসের কারণে বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ। এমনকি তাদের দুই জনের কর্মঘণ্টা কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। আয়ও কমে যাবে অর্ধেকে। মাস শেষে কীভাবে ঘর ভাড়া দেবেন, সন্তানের খাবার জোগাড় করবেন সে চিন্তায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তারা।

মাসুদ শরীফ জানান, হাতে যা সঞ্চয় ছিল তা দিয়ে এক মাসের বাজার কিনে রেখেছি; কিন্তু দুই সন্তান বাসায় থাকায় তাদের জন্য আলাদাভাবে খাবার কেনা যায়নি। এ অবস্থা বেশি দিন চললে মনে হয় আমরা বাঁচতে পারব না। আয় যদি না থাকে, ব্যয় করব কোথা থেকে? কী যে হবে কিছুই বুঝতে পারছি না।

সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও নিউ ইয়র্কের পাঁচ বরোতে কমপক্ষে আড়াই লাখ বাংলাদেশি রয়েছে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধ থাকায় মাসুদ শরীফের মতো হাজারো পরিবারে যেন দুর্দিন নেমে এসেছে। প্রায় ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে জীবন দুর্বিষহের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে গেছে। এসব চিন্তায় দিশেহারা পরিবারগুলো।

এস্টোরিয়ার স্টাইনওয়ের বাংলাদেশি একটি রেস্টুরেন্টের মালিক জানান, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর তাদের ব্যবসায় চরম মন্দা যাচ্ছে। টেক আউট সার্ভিসে তাদের রেস্টুরেন্টের ভাড়ার টাকাও উঠবে না।

নিউ ইয়র্ক শহরে হলুদ ট্যাক্সির সংখ্যা ১৩ হাজারের বেশি। অ্যাপভিত্তিক গাড়ির সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। এছাড়াও আছে গ্রিনক্যাব। সবমিলিয়ে ৯০ হাজার ক্যাবি রয়েছে নিউ ইয়র্কে। এই ৯০ হাজার ক্যাবির মধ্যে বাংলাদেশি ক্যাবি প্রায় ৩০ হাজার। করোনা ভাইরাস তাদের জীবনে অভিশাপ হিসাবে দেখা দিয়েছে।

উডসাইডে বসবাসরত এক বাংলাদেশি ক্যাবি জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি গাড়ি চালাতে পারছেন না। গাড়ি নিয়ে বের হলেও রাস্তায় যাত্রী পাচ্ছেন না। আট ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ১০০ ডলার আয় হয় না। গাড়ির জমা টাকা ওঠে না।