স্পোর্টস ডেস্ক
দিন তিনেক আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি লরেঞ্জো স্যানজ গত শনিবার রাতে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার ছেলে ফার্নান্দো স্যানজ ব্যাপারটি টুইটারে নিশ্চিত করেন।
বুধবার শরীরে করোনার মতো উপসর্গ ধরা পড়ায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সাবেক রিয়াল সভাপতিকে। এরপর থেকে অবশ্য অবস্থার উন্নতি হয়নি কখনোই। শেষমেশ গত শনিবার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন লরেঞ্জো।
ফার্নান্দো স্যানজ এ নিয়ে টুইটারে বলেন, ‘আমার বাবা মারা গেছেন। এভাবে মৃত্যুটা প্রাপ্য ছিল না তার। আমার দেখা সবচেয়ে দয়ালু, সাহসী ও কঠোর পরিশ্রমী মানুষের মধ্য থেকে একজন বিদায় নিলেন। তার পরিবার ও রিয়াল মাদ্রিদ তার আবেগের জায়গা ছিল। আমার মা ও ভাইয়েরা তার সঙ্গে প্রত্যেকটা মুহূর্ত খুবই গর্বের সঙ্গে উপভোগ করেছেন।’ ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত রিয়ালের সভাপতিত্ব করা স্যানজের মৃত্যুতে শোকবার্তা জানিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগা কর্তৃপক্ষ।
রিয়াল মাদ্রিদ ইউরোপীয় ফুটবলে বহু আগ থেকেই আধিপত্য বিস্তার করলেও সেটা গেল শতকের শেষের দিকে যেন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছিল। লরেঞ্জোর হাত ধরেই সে প্রতাপটা ফেরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে।
লরেঞ্জোর অধীনে ডেভর সুকার, ক্লারেন্স সিডর্ফ ও রবার্তো কার্লোসদের মতো তারকারা খেলেছেন রিয়ালের হয়ে। যারই ফল ৩২ বছরের চ্যামিপয়ন্স লিগ খরা ঘোচানো। ১৯৯৮ সালে একবার জিতেই কেবল ক্ষান্ত হয়নি রিয়াল। দুই বছর পর সেটা আবারও পুনরুদ্ধার করে দলটি। তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ক্লাব চালাতে তো আর্থিক দিকটাও ভাবা উচিত। লরেঞ্জোর আমলে আর্থিক দিক থেকে কিছুটা পিছিয়েই পড়েছিল রিয়াল। সেটাই পরে কাল হয়েছে সদ্যপ্রয়াত এই সভাপতির জন্যে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার কেবল দুই মাস পর সভাপতি নির্বাচনে হারার কারণও ছিল এটাই। তাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো রিয়ালের সভাপতি হন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। এরপর ২০০৪ আর ২০০৬ সালেও দুটো অসফল নির্বাচনি তত্পরতায় নেমেছিলেন তিনি। প্রথমবার পেরেজ আর পরেরবার রেমন ক্যালদেরনের কাছে হারেন লরেঞ্জো।
শেষমেশ ২০০৬ সালে লা লিগার আরেকটি দল মালাগাকে কিনে নিয়েছিলেন লরেঞ্জো। তবে সেখানেও খুব বেশি সময় থিতু হতে পারেননি তিনি। চার বছর পরই কাতারি ব্যবসায়ী নাসের আল থানির কাছে ক্লাবটি বিক্রি করে দেন সাবেক রিয়াল সভাপতি।
বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে স্পেন একটি। কেবল শনিবারেই ৩২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে দেশটিতে, এখন পর্যন্ত করোনার সংক্রমণে ১ হাজার ৩২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে স্পেনে।
