গুরুত্ব বুঝতে বললেন ফেদেরার

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ২০:৫১

স্পোর্টস ডেস্ক

অন্যসব খেলার মতো করোনা ভাইরাস ভোগাচ্ছে টেনিস বিশ্বকেও। তবে, এখন অন্য সবকিছু ভুলে করোনা ভাইরাস মোকাবিলাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন টেনিস কিংবদন্তি রজার ফেদেরার।

করোনা ভাইরাসকে পাত্তা না দেওয়ার পরিণতি এখন টের পাচ্ছে ইতালি। মৃত্যুর মিছিলে তারা ছাড়িয়ে গেছে ভাইরাসটির উত্পত্তিস্থল চীনকে। তাই করোনাকে হালকাভাবে না নিতে সবার প্রতি অনুরোধ করলেন সুইজারল্যান্ডের টেনিস তারকা রজার ফেদেরার।

ফেদেরারের দেশ সুইজারল্যান্ডেও থাবা বসিয়েছে এ ভাইরাস। মারা গেছেন ৫৬ জন, আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ১১৩ জনে গিয়ে ঠেকেছে। এখনই সতর্ক না হলে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে মনে করেন ২০ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী এই তারকা।

এই কঠিন সময়ে সবাইকে নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার অনুরোধ করলেন ফেদেরার। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিনি বলেছেন, ‘আমি ঘরে থাকছি। এখন কারো সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি না।’

স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী দিন কাটাচ্ছেন ৩৮ বছর বয়সি তারকা, ‘আমি ঘন ঘন হাত ধুচ্ছি, যেটা আমাদের করা উচিত। আমি বিশ্বাস করি, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো একে অন্যকে সাহায্য করা। বিশেষ করে বয়স্কদের সাহায্য করতে হবে, তারা অনেক ঝুঁকিতে আছে। তাদের সঙ্গে অন্তত দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং হাত মেলানো যাবে না।’

করোনার ভয়াবহতা বোঝা উচিত দাবি করলেন ফেদেরার, ‘এসব নিরাপত্তাবিধিকে গুরুত্ব দিতে হবে। নয়তো এরপরে আমাদের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে এবং আর ঘর থেকে বের হতে পারব না। তাই আমি বলব, সবাই একে গুরুত্ব দিন।’

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে টেনিসের সূচিও এবার লন্ডভন্ড হতে বসেছে। বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্ট ফরাসি ওপেন পিছিয়ে যাওয়ায় বাকি গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টগুলো নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ইউএস ওপেন পিছিয়ে দেয়ার আভাস দিয়েছে মার্কিন টেনিস অ্যাসোসিয়েশন।

উইম্বলডন কর্তৃপক্ষ অবশ্য এখনো সূচি অনুযায়ী (২৯ জুন থেকে ১২ জুলাই) টুর্নামেন্ট আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে করোনা পরিস্থিতি খুব দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জুনে উইম্বলডন আয়োজনের অনুমতি দেবে না ব্রিটিশ সরকার।

শেষ পর্যন্ত যদি তিনটি গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টই নতুন সূচিতে আয়োজন করতে হয় তবে এটিপি ও ডব্লিউটিএর অনেক টুর্নামেন্টই বাতিল হয়ে যাবে। ২৪ মের ফরাসি ওপেন পিছিয়ে গেছে ২০ সেপ্টেম্বরে। চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত।

অন্যদিকে ইউএস ওপেন হওয়ার কথা ২৪ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সাত দিনের ব্যবধানে দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম কোর্টে গড়ানো বাস্তবে একেবারেই অসম্ভব। এর মধ্যে উইম্বলডন পিছিয়ে গেলে ঝামেলা আরো বাড়বে।