করোনার প্রভাব ঠেকাতে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২০, ২২:৩১

করোনার প্রভাব ঠেকাতে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। সাধারণ শ্রমজীবী, নিম্নআয়ের মানুষ, পোশাক শিল্প শ্রমিকসহ আরো কিছু খাত চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবে দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কারখানা মালিকরা যেমন নিজের ব্যবসা নিয়ে শঙ্কিত, তেমনি কর্মীদের বেতন-ভাতা অব্যাহত রাখাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও সবকিছু বন্ধ করে বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত কার্যকর করায় সরকারিভাবে তাদের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আমেরিকা, ইউরোপসহ অন্যান্য দেশের সব শ্রেণির জনগণই এই সুবিধা পাচ্ছেন। আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ ঘোষণা দিয়েছে যে, অর্থনীতি সুসংহত রাখতে যা যা প্রয়োজনীয় সবই করা হবে। নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ায় সেসব দেশের কর্মীরাও নিরাপদে বাড়িতে অবস্থান করছেন। কিন্তু বাংলাদেশে অসংগঠিত (আনঅর্গানাইজড সেক্টর) খাতে বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের যেমন রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনি কর্মজীবী সব শ্রেণিপেশার মানুষ সামনের দিনগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এরই মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যও বেড়ে গেছে। ফলে বেসরকারি খাতের বেতনভুক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সময়ে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গতকাল সোমবার দৈনিক ইত্তেফাকে ‘নগদ প্রণোদনা জরুরি’ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যাতে সরকারিভাবে নগদে আর্থিক সুবিধা প্রদানের গুরুত্বারোপ করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার    নগদ সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের হয়তো এই সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে চিহ্নিত কিছু শ্রেণি-পেশার মানুষকে নগদ আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে। যার আওতায় থাকবে তৈরি পোশাক শিল্পসহ নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। যার বিস্তারিত ঘোষণা থাকবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে। আগামী ২৫ মার্চ তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।

তবে উদ্যোক্তাদের অনেকে বলেছেন, অন্যান্য দেশ যেভাবে ‘বেইল আউট প্যাকেজ’ ঘোষণা করেছে, তদ্রূপ সুবিধা দরকার। যাতে করে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ সবার সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। এ দুর্দিনে যাতে সবার ন্যূনতম ক্রয়ক্ষমতা অব্যাহত থাকে। অনির্দিষ্টকালের জন্য ঋণের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত করা, এ সময়ে সুদ স্থগিত রাখাসহ নগদ লেনদেন প্রবাহ অক্ষুণ্ন রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তারা।