ভ্রম ণ : জানার জন্য

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২০, ১৮:২৪

জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করি এবং ফেরার পথে তামাবিল স্থলবন্দরে কিছু সময় অবস্থান করি। দিনের প্রচণ্ড গরম শেষে সন্ধ্যায় শান্তির পরশ নিয়ে আসে এক পশলা বৃষ্টি। বৃষ্টিস্নাত পরিবেশে ক্লান্তি ভুলে গল্পগুজব, হাসি-ঠাট্টা আর দুষ্টুমিতে কাটে আমাদের সারারাত

  মো. সজিবুর রহমান সজীব

 

পাহাড়, টিলা, ঝরনা আর দিগন্ত বিস্তৃত চা-বাগান যেন সিলেটকে আদরে ঢেকে রেখেছে সবুজ চাদরে। সিলেটের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রকৃতির রূপ-লাবণ্যের অপূর্ব ভান্ডার। সিলেটের প্রকৃতি যেন অপরূপ সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি যেখানে পাহাড়, ঝরনা, নদী, হাওর, বাঁওড়, বিল ও বন আছে তেমনি বন্যপ্রাণি ও পশু-পাখির সমাহার। প্রকৃতির এসব লীলাভূমি মুগ্ধ করে সবাইকে। আর তাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অর্নাস চতুর্থ বর্ষের (২৭তম আবর্তন) শিক্ষা সফর ২০২০-এর জন্য বৃহত্তর সিলেট বিভাগকে বেছে নেওয়া হয়। 

আমাদের সফর শুরু হয় তিন তারিখ বিকাল চারটায়। দিনটা ছিল মঙ্গলবার। যথা সময়ে বাস উপস্থিত হয়ে থাকে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের বাংলা বিভাগের সামনে। আমরা শিক্ষার্থীরা মনের আনন্দে হৈ-হুল্লোড় ও ফুর্তি করে বাসে উঠি। আমাদের শিক্ষক ড. মো. মনজুর স্যার তিনিও বাসে আসন নেন আমাদের সঙ্গে। এরপর বাস ক্যাম্পাস ত্যাগ করে সরাসরি কুষ্টিয়া শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। সেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করেন আমাদের প্রাণ প্রিয় শিক্ষক ড. মো. রশিদুজ্জামান স্যার, ড. খোন্দকার আরিফা আক্তার ম্যাম। তারপর আমরা সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। বাসে নাচে-গানে কখন যে সময় গেল আমরা কেউ বুঝতেই পাড়লাম না। সকাল সাতটায় সূর্যমামা উঁকি দিল বাসের জানালায়। সকাল আটটায় আমরা সিলেট শহরে অবস্থান করলাম। বিশ্রামের জন্য আমরা সিলেটের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটকে বেছে নিয়েছিলাম। আমরা কিছুটা সময় বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি জাফলংয়ের উদ্দেশ্যে। পথে আমরা ড. মো. রশিদুজ্জামান স্যারের নির্দেশনায় হরিপুর গ্যাস ক্ষেত্র ঘুরে দেখি। সেখান থেকে বারোটায় যাত্রা শুরু করি। পথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র বর্তমানে জৈন্তাপুর উপজেলার ওসি রতন শেখ আমাদের জন্য জৈন্তাপুর রাজবাড়ীতে অপেক্ষা করেন। তার নেতৃত্বে আমরা জৈন্তাপুর রাজবাড়ী ঘুরে দেখি এবং জাফলংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। সেখানে জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করি এবং ফেরার পথে তামাবিল স্থলবন্দরে কিছু সময় অবস্থান করি। দিনের প্রচণ্ড গরম শেষে সন্ধ্যায় শান্তির পরশ নিয়ে আসে এক পশলা বৃষ্টি। বৃষ্টিস্নাত পরিবেশে ক্লান্তি ভুলে গল্পগুজব, হাসি-ঠাট্টা আর দুষ্টুমিতে কাটে আমাদের সারারাত। পরদিন সকালে নাস্তা শেষ করে আবার ছুটে চলা। বেরিয়ে পড়লাম শহরের সৌন্দর্য দর্শন আরোহণে। আমরা প্রথমে শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অবস্থান করলাম। পরে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখলাম। এরপর আমরা ভারতীয় সীমান্তে সাদাপাথরের দেশ, বাংলার কাশ্মীর খ্যাত ভোলাগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। আহ! কী, অপরূপ সৌন্দর্য! সেখানে দূরের পাহাড়গুলোর মেঘের ছড়াছড়ি সঙ্গে দুই একটা ঝরনা গড়িয়ে পড়ে নদীতে।