১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে অনিয়ম

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২০, ২২:১৫

নবাবগঞ্জের বাহ্রা ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি দরের চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সঠিক ওজনের চাল পেয়েছে দরিদ্ররা। গতকাল ঐ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগের পর এ ব্যবস্থা নেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসরাক জাহান।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক জন মহিলাকে চালের বস্তা নিয়ে ডিলারের দোকানের সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। তারা জানান, ডিলার সাইফুল ইসলাম রকেটের ৩০০ টাকায় ৩০ কেজি চাল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডিলার প্লাস্টিকের বালতিতে মেপে চাল দিয়েছে। এতে চাল মেপে ২৪ কেজি থেকে ২৫ কেজি ৮০০ গ্রামের বেশি পাওয়া যায়নি। এর আগেও এভাবে চাল নিয়েছি। আমরা সাধারণ মানুষ অভিযোগ করার সাহস পাইনি।

ডিলারের দোকান ঘরের সামনে দেখা যায়, মূল দরজায় তালা ঝুলছে। দরজার সামনে চাল নিয়ে কয়েক জন নারী-পুরুষ উত্কণ্ঠায় বসে আছেন। তারা জানান, তিন মিনিট আগে ডিলার তালা দিয়ে বেরিয়ে গেছেন। আমাদের কার্ডগুলোও ভেতরে রেখে গেছেন। তাহলে আমরা কি চাল পাব না? একই অভিযোগ পেয়ে ইউএনওর নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসরাক জাহান। তিনি উপস্থিত নারী-পুরুষকে শান্ত করে ডিলারকে মোবাইলফোনে ডেকে আনেন। পরে নিজে উপস্থিত থেকে কার্ডধারীদের ৩০ কেজি করে চাল বুঝিয়ে দেন। আগে যাদের কম চাল দেওয়া হয়েছে তাদেরও ৩০ কেজি চাল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

ডিলার সাইফুল ইসলাম রকেট বলেন, গুদাম থেকে চাল আনার সময় অনেক বস্তায় ওজন কম থাকে। তার ওপর স্থানীয় নেতা-জনপ্রতিনিধিরা কার্ডধারী নন এমন লোককে চাল দেওয়ার নির্দেশ দেন। আজও এক জনপ্রতিনিধি তিন জনকে পাঠিয়েছিলেন। চাল না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

চালের বস্তায় ওজন কম থাকার বিষয়ে ডিলারের অভিযোগ অস্বীকার করে কলাকোপা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, বস্তা ওজন করে ডিলারদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইসরাক জাহান বলেন, ডিলারের ওজনে কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।