শেয়ারবাজারের পতন থামাতে চালু করা নতুন সার্কিট ব্রেকারের কারণে শেয়ারবাজারে লেনদেনে খরা দেখা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ ২০০ কোটি টাকার নিচে নেমে গেছে। সেই সঙ্গে পতন হয়েছে সূচকের। অব্যাহত দরপতনের হাত থেকে শেয়ারবাজার রক্ষা করতে গত বৃহস্পতিবার নতুন সার্কিট ব্রেকার চালু করা হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন শুরু হবে শেষ পাঁচ কার্যদিবসের ক্লোজিং প্রাইসের গড় মূল্য দিয়ে। এর নিচে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম নামতে পারবে না। তবে দাম বাড়ার সীমা আগের মতোই থাকবে।
এদিকে সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার আগে আজ বুধবারই শেষ লেনদেন হবে। সাধারণ ছুটি ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ এবং ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শেয়ারবাজারে ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত লেনদেন বন্ধ থাকবে বলে ডিএসই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সময়ে ডিএসইর ট্রেডিং, সেটেলমেন্ট কার্যক্রমসহ সব দাপ্তরিক কাজ বন্ধ থাকবে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সার্কিট ব্রেকারের নতুন এই নিয়মের কারণে শেয়ারের দাম নির্দিষ্ট সীমার নিচে নামতে না পারায় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত থাকছে। গতকাল মঙ্গলবার ডিএসই লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৫টির। আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪২টির।
বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট কমে ৩ হাজার ৯৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ কমেছে দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট। আর ডিএসই শরিয়াহ্ কমেছে এক পয়েন্ট।
সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর লেনদেন হয়েছে ১৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ২৫৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ হিসাবে লেনদেন কমেছে ১১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই আগের দিনের তুলনায় কমেছে ২১ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ৮১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৭টির। আর ১০৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
