চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে নৌকা-ধানের শীষের অসম ভোটযুদ্ধ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী জাতীয় সংসদের হুইপ সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন ও তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরিফ এই অসম যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছেন।
নির্বাচনের মাঠে-ময়দানে নৌকার জয়জয়কার থাকলেও ধানের শীষের প্রার্থীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি ভোটযুদ্ধকে অসম বলে আখ্যায়িত করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
জানা গেছে, স্বাধীনতাত্তোর সময়ে চুয়াডাঙ্গা আওয়ামী লীগের রাজনীতির হাল ধরেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। তিনি দেড় দশক ধরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্ষিয়ান এই নেতা কয়েক দশক শক্ত হাতে দলের হাল ধরে রেখেছেন। ইতিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদরের ৬টি ও আলমডাঙ্গার ১৫টি ইউনিয়নের তৃণমূলে রয়েছে তার একক আধিপত্য।
অপরদিকে, কেন্দ্রীয় বিএনপি সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাজনীতিতে একেবারে তরুণ শরিফুজ্জামান শরিফকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়। এই আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক এমপি শামসুজ্জামান দুদু অথবা জেলা বিএনপির আহবায়ক অহিদুল ইসলাম বিশ্বাসও ছিল। শরিফের তৃণমূলে নিজস্ব কোন পরিচিতি নাই। ধানের শীষের প্রার্থী শরিফ দীর্ঘদিনের বিবাদমান বিএনপির দুটি গ্রপকে একত্রিত করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতেও সম্পূর্ন ব্যর্থ হন বলে মনে করেন অনেকেই।
শুরুতে শরিফ নিজের কিছু কর্মী-সমর্থক নিয়ে কয়েকদিন নির্বাচনী প্রচারনা চালালেও রাজনৈতিক বৈরী পরিবেশে তা আর চালাতে পারেনি। তিনি হামলারও শিকার হন। ফলে কদিনের মাথায় দৃশ্যত নির্বাচনী মাঠ থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। এ সুযোগে মাঠের পুরোটা নৌকার দখলে চলে যায়। আসনটি হয়ে পড়ে বিএনপি নেতাকর্মী শুন্য।
ধানের শীষের প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরিফ বলেন, 'আমার ওপর আওয়ামী লীগের লোকজন হামলা করে গাড়ি ভাংচুর করেছে। প্রচারণা চালাতে দিচ্ছে না। পুলিশ বাড়ি বাড়ি রেইড দিয়ে কর্মী-সমর্থকদের এলাকাছাড়া করেছে। সরকার ও প্রশাসনিক ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আমাদেরকে লড়তে হচ্ছে। কি ধরনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা সাধারণ মানুষ মাত্রই বুঝতে পারছে।'
নৌকার প্রার্থী সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকার ১০ বছরে দেশের যে উন্নয়ন করেছে তা মানুষ ঘরে বসে ভোগ করছে। চুয়াডাঙ্গার রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজসহ নানা অবকাঠামোর আমি উন্নয়ন করে দিয়েছি। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে এটা মানুষ বুঝতে পেরেছে। বাংলার মানুষ অকৃতজ্ঞ নয়। তারা ভালোকে ভালো ও মন্দকে মন্দ বলতে শিখেছে।'
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, 'মানুষ কেন নৌকার বাইরে যাবে?'
আরও পড়ুনঃ ‘ভোট বিপ্লবের’ ডাক ড. কামাল হোসেনের
এছাড়া চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ৩০ তারিখের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন এ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন ও চরমোনাইয়ের প্রতীক হাতপাখা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন জহুরুল ইসলাম আজিজ।
ইত্তেফাক/অনি/নূহু
