বাজেটে করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় উদ্যোগ চায় ডিসিসিআই

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২০, ২১:৫১

আসছে বাজেট ২০২০-২১

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনা ভাইরাসের থাবায় বিশ্ব অর্থনীতির ওলট-পালট অবস্থা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশ অর্থনীতি ও শিল্পোদ্যোক্তাদের রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগও নিচ্ছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতির অবস্থাও টালমাটাল। আগামী জুনের শুরুতে সরকার পরবর্তী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী নেতারা করোনা ভাইরাসে ক্ষতির বিষয়টি মাথায় রেখে বাজেট প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। বাজেট প্রস্তাবে ব্যবসায়ীদের প্রভাবশালী সংগঠন ঢাকা চেম্বারও বাজেটে করোনা ভাইরাসের ক্ষতি থেকে উত্তরণের প্রতিফলন চেয়েছে। ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা দরকার। যাতে সরকার, সাধারণ জনগণ এবং বেসরকারি খাত এ অবস্থা উত্তরণে সহায়ক নীতিমালা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সুফল পেতে পারে। গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য আলমগীর হোসেনের কাছে ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ সংগঠনের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব তুলে দেন।    

ডিসিসিআইর প্রস্তাবে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বিদ্যমান দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তি করদাতাদের সর্বনিম্ন করহার ১০ শতাংশ হতে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার আহ্বান জানানো হয়। মূলত মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়। এছাড়া করপোরেট করহার আগামী তিন বছরে ১০ শতাংশ কমানোর দাবিও জানানো হয়। এ লক্ষ্যে প্রথম বছর ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী দুই বছরে আরো ৫ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়।   

এছাড়া কর পক্রিয়া সহজীকরণ ও করের আওতা বৃদ্ধির জন্য সম্পূর্ণ অটোমেটেড অনলাইন ব্যবস্থায় আয়কর বিবরণী (রিটার্ন) জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করেন। বহুল আলোচিত ভ্যাট আইন গত জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনে ১৫ শতাংশের বাইরে কম হারে প্রদান করা ভ্যাটের ক্ষেত্রে রেয়াত নেওয়ার সুযোগ নেই। এতে আপত্তি জানিয়েছে ডিসিসিআই। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৫ শতাংশ, ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ বা যে কোনো হারে ভ্যাট প্রদান করলে কর রেয়াতের সুযোগ থাকা উচিত। শিল্পায়নের ধারাকে বেগবান করার জন্য রপ্তানিমুখী শিল্পপণ্য উত্পাদন বাড়াতে ও রপ্তানিবহুমুখীকরণকে উত্সাহিত করতে শিল্পপণ্য উত্পাদনে সব প্রকার কাঁচামাল ও মেশিনারিজের ওপর অগ্রিম কর (অ্যাডভান্স ট্যাক্স বা এটি) প্রত্যাহার এবং তৈরি পোশাক খাতের ডিজাইন এবং ডামি সেন্টার, স্যাম্পল, ইটিপি, জ্বালানি দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতির দাবিও জানানো হয়।

এছাড়া এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য টার্নওভার ট্যাক্সের (বার্ষিক বিক্রি) সীমা বিদ্যমান ৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি টাকা করা, পণ্যের মূল্য সংযোজন বা মুনাফা অনুপাতে ৪ শতাংশ ভ্যাট আরোপসহ বেশকিছু দাবি তুলে ধরা হয়।