সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে দেশব্যাপী টহল শুরু করেছে সেনাবাহিনী। গতকাল বুধবার বিভাগীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সকল জেলা ও উপজেলায় এ টহল কার্যক্রম শুরু করেন তারা। টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাইকিং করে জনগণকে ভিড় এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণেও কাজ করছে সেনাবাহিনী। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ কাজ করছেন তারা।
গতকাল ময়মনসিংহের মোমেনশাহী সেনানিবাস থেকে সকাল ৮টায় চার প্লাটুন সেনা সদস্য নগরীর বিভিন্ন সড়কে টহল দেন। এ সময় নগরীর ব্যস্ততম এলাকা গাঙ্গিনারপার, স্টেশন রোড, চড়পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জটলা করে থাকা লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া হ্যান্ডমাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের না হতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
খুলনায় মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীর ৬ প্লাটুন সদস্য। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীসহ জেলার সড়ক ও অলিগলিতে টহল দেন সেনা সদস্যরা। গোপালগঞ্জে জন সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন স্থানে টহল দিচ্ছেন সেনাসদস্যরা। তারা হ্যান্ডমাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনগণকে সচেতন করছেন।
এদিকে মোংলায় নেমেছে নৌবাহিনী। নৌবাহিনীর ‘মোংলা কন্টিনজেন্ট’ মোংলা বন্দর এলাকা, পৌর শহর ও শহরতলীতে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছেন। বিদেশ থেকে আগতদের নিজ বাড়িতে থাকা এবং করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের দেওয়া সকল নির্দেশনা পালন ও বাস্তবায়ন করবে নৌবাহিনী। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ নৌবাহিনীর দুটি প্লাটুন সদস্য কাজ করবে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে।
করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বিমান বাহিনীর কার্যক্রম ঃ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাতীয় যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নির্দেশনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে সহায়তা প্রদান করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রত্যেকটি ঘাঁটিতে ইতিমধ্যে ‘করোনা সমন্বয় ও মনিটরিং সেল’ স্থাপন করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার আওতায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধকল্পে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি বিমান বাহিনীও জরুরি বিমান পরিবহন এবং মেডিক্যাল ইভাকুয়েশন সহায়তা প্রদান করছে। এছাড়া, চিকিত্সা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বিমান বাহিনীর একটি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে যারা যে কোনো প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর মেডিক্যাল টিমের সঙ্গে সমন্বিতভাবে সেবা প্রদান করবে।
সমুদ্র ও উপকূলীয় ৬ জেলায়
কাজ করেছে নৌবাহিনী
দেশে করোনা ভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে উপকূলীয় এলাকায় কাজ শুরু করেছে নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টসমূহ। ইতিমধ্যে খুলনা নৌ-অঞ্চল হতে ১৭ জন কর্মকর্তাসহ ১৮৬ জন নৌ-সদস্যের আটটি কন্টিনজেন্ট বিভিন্ন প্লাটুনে ভাগ হয়ে উপকূলীয় বরগুনা সদর, আমতলী, বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা এবং তালতলী উপজেলায় পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম নৌ-অঞ্চল হতে ১৬ জন কর্মকর্তাসহ ১৪৪ জন নৌ-সদস্যের আরো সাতটি কন্টিনজেন্ট ভোলা সদর, বোরহান উদ্দিন, দৌলতখান, চর ফ্যাশন, মনপুরা, লালমোহন, তজুমুদ্দিন, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী এলাকায় ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় কাজ শুরু করেছে।
নৌবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, উপকূলীয় এসব এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা, বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় ভাইরাস সংক্রমিত রোগীদের চিকিত্সার ব্যবস্থা করা, বিদেশফেরত নাগরিকদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে নৌসদস্যরা। এছাড়া যে কোনো প্রয়োজনে সার্বিক সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত রয়েছে নৌবাহিনী।
